জাপানি সংস্কৃতিতে সময়ানুবর্তিতা সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখা হয়। পরিচ্ছন্নতা, নিয়ম মেনে চলা, কাজের দায়িত্ববোধ ও অপচয় না করার মতো অভ্যাসও জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নির্ধারিত সময়ে অফিস, স্কুল, ট্রেন বা বৈঠকে পৌঁছানোর চেষ্টা জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস। জাপানিদের নিয়মতান্ত্রিক জীবনের এমন সাতটি দিক তুলে ধরা হলো।
১. ‘কাজ শেষ, জায়গা পরিষ্কার’
পরিচ্ছন্নতা শুধু পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব, এমন ধারণা জাপানে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় না। স্কুলের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার করার সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ববোধ শেখে।
২. নিয়ম মেনে চলা
রাস্তা পার হওয়া, গণপরিবহন ব্যবহার, লাইনে দাঁড়ানো কিংবা জনসমাগমে আচরণের ক্ষেত্রে অনেক সময় জাপানিরা সামাজিক নিয়মকে গুরুত্ব দেন। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের সুবিধার কথাও বিবেচনা করা হয়।
৩. খাবারেও শৃঙ্খলা
খাবারের পরিমাণ, উপস্থাপন ও খাওয়ার পদ্ধতিতেও জাপানি সংস্কৃতির নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। খাবারকে শুধু পেট ভরানোর বিষয় হিসেবে নয়, উপভোগ ও কৃতজ্ঞতার বিষয় হিসেবেও দেখা হয়।
৪. কাজের জায়গায় দায়িত্ববোধ
জাপানের কর্মসংস্কৃতিতে দায়িত্ব, দলগত কাজ এবং নির্ধারিত কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নিজের কাজ অন্যের ওপর চাপিয়ে না দেওয়ার মানসিকতাও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নীরবতারও মূল্য আছে
গণপরিবহন বা জনসমাগমে উচ্চস্বরে কথা না বলা এবং ফোনে সংযত থাকা অনেক জাপানি সামাজিক পরিবেশে অন্যের প্রতি সম্মান হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬. প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ
জাপানি জীবনদর্শনে প্রকৃতি ও ঋতু পরিবর্তনের প্রতি গভীর মনোযোগ দেখা যায়। বসন্তের চেরি ফুল থেকে শরতের পাতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ তাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৭. ‘মোত্তাইনাই’: অপচয় না করার শিক্ষা
এই ধারণা কোনো সম্পদের অপচয় না করার মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত। খাবার, পানি কিংবা ব্যবহারযোগ্য কোনো জিনিস অকারণে নষ্ট না করার প্রবণতা এই দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিআলো/শিলি