ঢাকা থেকে রাজশাহীতে ফেরার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মালপত্রবাহী কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি হওয়া রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মালপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি পেশাদার চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে এই চুরির ঘটনার সূত্র ধরে অভিযান শুরু হয়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার পুঠিয়া ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছেÑ খেলোয়াড়দের লাগেজ, পাসপোর্ট, আইফোন, ৩০০ মার্কিন ডলার, বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী, পোশাক, দামি পারফিউম ও অন্যান্য মূল্যবান মালপত্র। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ জানান, গ্রেপ্তার পাঁচজনই পেশাদার অপরাধী। চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের দরজা ভেঙে বা কৌশলে খুলে মালপত্র চুরিতে তারা অভ্যস্ত। এই কৌশলেই বিসিবির কাভার্ড ভ্যান থেকে ক্রিকেটারদের লাগেজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তাদের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া ও চারঘাট উপজেলায়।
বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী সুমন জানান, লাগেজ উদ্ধারের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তারা জেলা ডিবি কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউ কেউ ক্রিকেটারদের স্পোর্টস ট্রাউজার ও পোশাক পরে রয়েছেন এবং লাগেজে থাকা দামি পারফিউমও ব্যবহার করেছেন।
তবে চুরির ঘটনায় খোয়া যাওয়া সব মালপত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এক ক্রিকেটারের ব্যাগে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ওই টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ ঘিরে। রাজধানীর মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটাররা বুধবার সকালে বিমানে রাজশাহীতে ফেরেন। অন্যদিকে, বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যানে তাদের ৫৪টি লাগেজ পাঠানো হয়েছিল। রাজশাহীর হোটেলে পৌঁছে লাগেজ নামানোর সময় দেখা যায় আটটি লাগেজ উধাও।
পরে ক্রিকেটার এস এম মেহেরাব হোসেন রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ, তাদের সঙ্গে বিশেষ শাখা (ডিবি) যোগ দিলে এই সাফল্য আসে। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।