মেদিনীপুরের বধূ স্নেহা চক্রবর্তীর মৃত্যুতে নয়া মোড়। বুধবার মেদিনীপুরে আদালতে দাঁড়িয়ে রণদীপের আইনজীবী মৃণাল চৌধুরী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল নিজের টাকাতেই বিএমডব্লিউ কিনেছিলেন। ওই বিলাসবহুল গাড়ি কেনার জন্য স্ত্রীর বাপের বাড়ি থেকে টাকা দাবি করেননি রণদীপ। গাড়ি কেনার পর থেকে দাম্পত্য অশান্তি শুরু হয়, সে কারণেই চরম সিদ্ধান্ত নেন স্নেহা। পুলিশের নজরে রণদীপের বন্ধু বশারও। তার খোঁজে চলছে তল্লাশি।
মৃত স্নেহা চক্রবর্তী পশ্চিম মেদিনীপুর শহরের ডাকবাংলো রোড এলাকার বাসিন্দা তিনি। বাবা ধ্রুব চক্রবর্তী লালবাজারে কর্মরত। জানা গিয়েছে, যমুনাবালির বাসিন্দা রণদীপ জানার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বছর পঁচিশের স্নেহার। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত ডিসেম্বরে তাঁদের বিয়ে হয়। সেই সময় জামাইয়ের দাবি মতো যৌতুকও দেন স্নেহার বাবা। অভিযোগ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বাড়ছিল রণদীপের। সম্প্রতি বাপের বাড়ি থেকে ১০ লক্ষ টাকা আনার জন্য স্নেহার উপর চাপ দিতে শুরু করেন তিনি। গোটা ঘটনায় রণদীপকে উসকানি দিত তাঁর বন্ধু বশার। কয়েকদিন ধরে বিএমডব্লিউ কেনা নিয়ে দম্পতির মধ্যে অশান্তি চলছিল। এসবের মাঝে বন্ধু বশারের সঙ্গে গিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ফেরেন রণদীপ। তারপর রণদীপ ও বশার স্নেহাকে বেধড়ক মারধর করে বলেও অভিযোগ। গত ১০ অক্টোবর রাতে শ্বশুরবাড়িতেই মেলে স্নেহার দেহ।
বুধবার রণদীপের এক আত্মীয় আদালতে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, রণদীপ নিজেই বিত্তশালী। তাই তাঁকে গাড়ি কেনার জন্য শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। নিজেই কিনতে পারে। সোশাল মিডিয়ায় তাঁকে নিজে অযথা গুজব রটানো হচ্ছে। স্নেহার বাবার দাবি অবশ্য অন্যরকম। তাঁর দাবি, বিয়ের সময় মেয়েকে তিনি ৪৫ লক্ষ টাকা গয়না দেন। স্নেহার মায়ের কিছু গয়নাও নাকি তিনি ব্যবহার করতেন। সেই গয়নার এখন আর কোনও খোঁজ নেই। এদিকে, অভিযুক্ত বশারের বিরুদ্ধেও স্নেহাকে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। তার খোঁজ শুরু হয়েছে। বশার গা ঢাকা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ধোঁয়াশা জারি হয়েছে।
