Published on
:
2 min read
এই সময়: জিডিপি পরিসংখ্যান নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের পাশে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ) দাঁড়ানোর পরে শুক্রবার দেশের চলতি অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে আশার কথা শোনাল উপদেষ্টা সংস্থা ডেলয়েট। দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি বাড়লে চলতি অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হার ৭.১ শতাংশ থেকে ৭.৩ শতাংশের মধ্যে পৌঁছতে পারে বলে তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে ডেলয়েট ইন্ডিয়া। সংস্থার তরফে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল পরিবারের খরচ এবং সরকারি পরিকাঠামো ধারাবাহিক বিনিয়োগ। এ বার সেই বৃদ্ধির ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে বেসরকারি সংস্থাগুলির মূলধনী বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানির দামে ওঠানামা এবং বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ভারতের বৃদ্ধির পথে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
ডেলয়েট ইন্ডিয়ার অর্থনীতিবিদ রুমকি মজুমদারের মতে, গত এক দশকে ভারতীয় অর্থনীতির ভিত মজুবত করতে সাহায্য করেছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সরকারি পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ। সড়ক, রেল, বন্দর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিকাঠামোর উন্নতি ব্যবসার পরিবেশকে আগের তুলনায় সহজ করেছে। একই সঙ্গে বহু সংস্থার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং উৎপাদন পরিকাঠামোর ব্যবহারও বেড়েছে। ফলে নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন, এই ইতিবাচক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলি কতটা ধারাবাহিক ভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।
ডেলয়েট-এর পর্যালোচনায় এই বিষয়ে আশার ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে, দেশের মোট স্থায়ী মূলধন গঠন বেড়েছে ১১.৯ শতাংশ। গত চার বছরের মধ্যে এই বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ। অর্থনীতির পরিভাষায়, এর মধ্যে কারখানা, যন্ত্রপাতি, পরিকাঠামো এবং উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় অন্য স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের হিসেব ধরা হয়। এই সূচকের বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয়, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগের প্রবণতা জোরদার হচ্ছে। তবে এই গতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তার উপরেই আগামী দিনে বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।
ডেলয়েট ইন্ডিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.১ থেকে ৭.৩ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। পরের অর্থবর্ষ, অর্থাৎ ২০২৭-২৮ সালে বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে ৬.৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
