রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তারা জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানায়।
একপর্যায়ে বাসার দরজা-জানালায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি করেছে জাতীয় পার্টি। হামলার সময় চেয়ারম্যান জিএম কাদের বাসায় ছিলেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি বলে নিশ্চিত করেছেন দলের দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম।
এ বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, হামলাকারীরা তাকে ভারতের ও আওয়ামী লীগের দালাল বলে গালিগালাজ করেছে। পরে পুলিশ ও অন্যরা ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষোভকারীরা চলে যায়। কেন হঠাৎ এ হামলা হলো, তা তিনি জানেন না।
এদিকে উত্তরায় বিক্ষোভকারীদের ব্যানারে জিএম কাদেরের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, তিনি জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছেন এবং ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। বিক্ষোভকারীদের
অভিযোগ, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছে। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের রাজনৈতিক পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দেন তারা। একই সঙ্গে জিএম কাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, এটি শুধু হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা নয়, বরং দলীয় চেয়ারম্যানকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। দেশে বারবার মব কালচারের পুনরাবৃত্তি ঘটলেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হবে। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জিডি ও মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
হামলার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন দলটির নেতাকর্মীরা। তারা হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর বলেন, বেলা ১১টার দিকে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ততক্ষণে হামলাকারীরা চলে গেছে। তারা বাইরে থেকে ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর চালালেও বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জিএম কাদেরের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। একই সময়ে বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয় ও দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
