মুনাফায় এগিয়ে পাইওনিয়ার, শেষ প্রান্তিকে ধাক্কা ফনিক্সের
ছবি সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের তিন কোম্পানির মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বৃদ্ধিতে এগিয়ে রয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। একই সময়ে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুনাফাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে কোম্পানিটির মুনাফায় বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসির (বিজিআইসি) মুনাফায় প্রবৃদ্ধি থাকলেও তা ছিল সামান্য। ফলে নয় মাসের হিসাবে তিন কোম্পানির ইপিএস বাড়লেও সর্বশেষ প্রান্তিকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। একই সময়ে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। আর বিজিআইসির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ। তবে তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাবে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বাড়লেও ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের কমেছে। বিজিআইসির ক্ষেত্রে এই সময়ে ইপিএস আগের বছরের একই সময়ের সমান রয়েছে।
পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ৩ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা বেড়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৪০ শতাংশ।
নয় মাসের হিসাবে তিন কোম্পানির মধ্যে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে আলোচ্য তিন কোম্পানির মধ্যে নয় মাসে সর্বোচ্চ শেয়ারপ্রতি মুনাফাও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ হিসাবে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
তবে শুধু নয় মাসের সামগ্রিক ফলাফল নয়, তৃতীয় প্রান্তিকের চিত্রেও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ৯০ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ২৯ পয়সা বা প্রায় ৩২ শতাংশ। নয় মাসের পাশাপাশি তৃতীয় প্রান্তিকেও মুনাফা বাড়ার কারণে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক ফলাফলে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যদিও প্রকাশিত তথ্য থেকে মুনাফা বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি, তবু ইপিএসের পরিসংখ্যান বলছে, আগের বছরের তুলনায় চলতি বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে।
কোম্পানিটির সম্পদমূল্যের তথ্যেও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচক পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ২৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য একটি কোম্পানির সম্পদ ও দায়ের হিসাবের ভিত্তিতে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদের পরিমাণ নির্দেশ করে। তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ সূচকের পাশাপাশি মুনাফা, নগদ প্রবাহ, দায় এবং শেয়ারের বাজারদরসহ অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের নয় মাসের আর্থিক ফলাফলও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা। ফলে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ৪৪ পয়সা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৭ শতাংশ। নয় মাসের হিসাবে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বৃদ্ধির হার পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের তুলনায় কম হলেও তা উল্লেখযোগ্য। তবে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নয় মাসের মুনাফায় প্রবৃদ্ধি থাকলেও সর্বশেষ তিন মাসে সেই চিত্র ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৬০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ৯৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে ৩৩ পয়সা। শতকরা হিসাবে পতনের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ।
এ হিসাবে নয় মাসে মুনাফা বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে। দীর্ঘ নয় মাসের সামগ্রিক ফলাফল এবং সর্বশেষ তিন মাসের ফলাফলের মধ্যে এই পার্থক্য কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, নয় মাসের হিসাব বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকসহ পুরো সময়ের সম্মিলিত ফলাফল তুলে ধরে। অন্যদিকে তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক সময়ের মুনাফার চিত্র সামনে আনে।
ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে তাই শুধু নয় মাসের ইপিএস বৃদ্ধির হার বিবেচনা করলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। একই সঙ্গে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা কমে যাওয়ার বিষয়টিও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তবে প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্যের ভিত্তিতে মুনাফা কমার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ কারণে পরিচালন ব্যয়, বিনিয়োগ আয়, দাবি নিষ্পত্তি কিংবা অন্য কোনো বিষয়কে এই পতনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৩৭ টাকা ১ পয়সা। নয় মাসের মুনাফা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পদমূল্যের এই তথ্য কোম্পানিটির আর্থিক সূচকের আরেকটি অংশ তুলে ধরে। তবে এনএভিপিএসের সঙ্গে ইপিএসের সরাসরি তুলনা করে কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূচক পর্যালোচনা করা জরুরি।
তৃতীয় কোম্পানি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসির (বিজিআইসি) আর্থিক ফলাফলে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল চিত্র দেখা গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস বেড়েছে মাত্র ১ পয়সা। শতকরা হিসাবে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১ শতাংশ।
অর্থাৎ পাইওনিয়ার ও ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের তুলনায় বিজিআইসির মুনাফা বৃদ্ধির হার অনেক কম। যদিও কোম্পানিটির ইপিএস আগের বছরের তুলনায়সামান্য বেড়েছে, তবে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ সীমিত। নয় মাসের ফলাফল অনুযায়ী, কোম্পানিটি মুনাফা বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলেও শেয়ারপ্রতি আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।
বিজিআইসির তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফলও প্রায় একই ধরনের চিত্র তুলে ধরেছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৫০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফাও ছিল ৫০ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএসে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এতে দেখা যায়, নয় মাসে বিজিআইসির শেয়ারপ্রতি মুনাফা সামান্য বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে তা আগের বছরের একই সময়ের পর্যায়েই রয়েছে। অন্য দুই কোম্পানির তুলনায় বিজিআইসির ফলাফলে বড় উত্থান বা পতন কোনোটিই দেখা যায়নি। তবে মুনাফা অপরিবর্তিত থাকার অর্থ এই নয় যে কোম্পানিটির সব আর্থিক সূচকও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রকাশিত তথ্যের বাইরে অন্য সূচক সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে বিজিআইসির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ২১ টাকা ১৯ পয়সা। তিন কোম্পানির মধ্যে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের হিসাবে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের অবস্থান সর্বোচ্চ, এরপর রয়েছে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স এবং বিজিআইসি। তবে শুধু এনএভিপিএসের পরিমাণ দিয়ে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগযোগ্যতা নির্ধারণ করা যায় না। প্রতিটি কোম্পানির ব্যবসার ধরন, আর্থিক ঝুঁকি, মুনাফার ধারাবাহিকতা ও বাজারদর বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিন কোম্পানির আর্থিক ফলাফল পাশাপাশি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে তিনটিরই শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির হারে বড় পার্থক্য রয়েছে। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে বিজিআইসির ইপিএস বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশের মতো।
আবার তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বিবেচনায় নিলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়। পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস কমেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। আর বিজিআইসির শেয়ারপ্রতি মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের মতোই ৫০ পয়সায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ সামগ্রিক নয় মাসের হিসাবে তিন কোম্পানি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখালেও সর্বশেষ প্রান্তিকে তাদের মুনাফার গতিপ্রকৃতি এক নয়।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক ফলাফল বিশ্লেষণে নয় মাসের ইপিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে এই সূচকের পাশাপাশি প্রান্তিকভিত্তিক মুনাফার পরিবর্তনও বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ, দীর্ঘ সময়ের সম্মিলিত ফলাফলে আগের প্রান্তিকগুলোর অর্জন অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে নয় মাসের হিসাবে মুনাফা বাড়লেও সর্বশেষ প্রান্তিকে তা কমে যাওয়ার বিষয়টি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা দরকার।
এ ক্ষেত্রে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের নয় মাস ও তৃতীয় প্রান্তিক—উভয় সময়েই মুনাফা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে নয় মাসের প্রবৃদ্ধির বিপরীতে তৃতীয় প্রান্তিকে পতন লক্ষ করা যাচ্ছে। আর বিজিআইসির ক্ষেত্রে নয় মাসে সামান্য প্রবৃদ্ধি হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে তিন কোম্পানির আর্থিক ফলাফল থেকে বোঝা যায়, একই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও মুনাফা বৃদ্ধির গতি এক রকম নয়।
তবে এসব পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ মুনাফা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পরবর্তী প্রান্তিকের ফলাফল, পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী এবং মুনাফার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রবণতা আরও পরিষ্কার হতে পারে। বিশেষ করে ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা কমার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিবরণীর বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা প্রয়োজন।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফলে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স মুনাফা বৃদ্ধির হারে এগিয়ে রয়েছে। ফনিক্স ইন্স্যুরেন্সও নয় মাসে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যদিও তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে। অন্যদিকে বিজিআইসির মুনাফায় বড় পরিবর্তন আসেনি। ফলে নয় মাসের হিসাবে তিন কোম্পানির ইপিএস বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল তাদের আর্থিক পারফরম্যান্সের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরেছে। পলিসি কিনতে বাধ্য করছে মর্মে তথ্য মিলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের পলিসির প্রাপ্য অর্থ থেকে নতুন পলিসির প্রিমিয়াম বাবদ টাকা কেটে রেখে বা সমন্বয় করে অবশিষ্ট সামান্য টাকা গ্রাহক বা নমিনিকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বীমা দাবি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ সরাসরি গ্রাহক বা তার মনোনীত ব্যক্তির (নমিনি) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করার বাধ্যবাধকতা আছে। দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন পলিসি কিনতে বাধ্য করা বা নতুন পলিসির প্রিমিয়াম হিসেবে দাবি থেকে টাকা কাটার আইনগত কোনো সুযোগ নেই এবং এটি সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বীমা গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং পুরো বীমা খাতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
আইডিআরএ নির্দেশ দিয়েছে, দাবি মেটানোর সময় প্রযোজ্য সরকারি রাজস্ব (কর ও ভ্যাট) ব্যতীত অন্য কোনো অজুহাতে কোনো চার্জ বা ফি কাটা যাবে না। সম্পূর্ণ পাওনা টাকা গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এককালীন স্থানান্তর করতে হবে।
