হুতিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে ১০ দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১২৬টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৫৯টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৬৭টি।
আজ সোমবার সন্ধ্যা সাতটার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এর আগের দিন রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া তথ্যে ১১৮টি ফ্লাইটে চলাচলে বিঘ্নের কথা জানানো হয়েছিল। তখন ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৩৬২।
বেবিচকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে।
ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৪টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে।
১০ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে দফা দফায় হামলা চালাচ্ছে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। হুতিদের হামলার জেরে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের মতো ভোগান্তিতে পড়েছেন বাংলাদেশি যাত্রীরাও। এর আগে বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসনসংখ্যা বাড়িয়েছিল।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ১৭ অক্টোবর থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। অন্যদিকে দাম্মামগামী ফ্লাইট ২১ অক্টোবর থেকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, তবে তা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভর করছে। এ ছাড়া রিয়াদগামী বেসরকারি ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা রয়েছে।
