তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমে যায়। বন্যার কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হয়। লবণাক্ততা কৃষি ও মিঠাপানির সরবরাহের জন্য হুমকি তৈরি করে। জলবায়ু পরিবর্তনের এসব প্রভাব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোর ওপর আগে থেকেই থাকা চাপ আরো বাড়িয়ে তোলে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আমদানিনির্ভর জ্বালানির ঝুঁকিও সামনে নিয়ে এসেছে
গ্রিন ডায়ালগ তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন তা অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে— এক লিংকডইন পোস্টে এ মন্তব্য করেছেন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং। গতকাল রাজধানীতে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক গ্রিন ডায়ালগে অংশ নেন তিনি। এর পর সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে নিজের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেন চিংফেং।
এ সংলাপে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং ব্যবসা ও উন্নয়ন খাতের প্রায় ২০০ জন নেতা।
চিংফেং বলেন, ‘গ্রিন ডায়ালগ তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন তা অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলার সমাধানগুলোকে যুক্ত করা সম্ভব হয়।’
তার মতে, সংলাপে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা একইসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমে যায়। বন্যার কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হয়। লবণাক্ততা কৃষি ও মিঠাপানির সরবরাহের জন্য হুমকি তৈরি করে। জলবায়ু পরিবর্তনের এসব প্রভাব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোর ওপর আগে থেকেই থাকা চাপ আরো বাড়িয়ে তোলে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আমদানিনির্ভর জ্বালানির ঝুঁকিও সামনে নিয়ে এসেছে।’
‘আমার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের সঙ্গে নীতিগত সংস্কার যুক্ত করা গেলে তা বর্তমানের জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় সহায়তা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বাড়াতে পারে।’
আগামী বছরগুলোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এডিবির ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা নিয়ে এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া সমঝোতার ধারাবাহিকতায় চারটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন চিংফেং ঝাং।
প্রথমত, ছাদকে কাজে লাগাতে হবে। কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং এ খাতে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরো নির্ভরযোগ্য করা। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো এবং ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থায় বিনিয়োগ করতে হবে।
তৃতীয়ত, সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। ঝুঁকিতে থাকা গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুতের ট্যারিফ কাঠামো, নেট মিটারিং এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যের নিয়মকানুন আরো শক্তিশালী করতে হবে।
চতুর্থত, সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোকে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপ দেয়া। এ জন্য স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া ও বিশ্বাসযোগ্য অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা সমর্থিত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।
ফলপ্রসূ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এডিবি সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রকল্প ও লেনদেনবিষয়ক পরামর্শসেবা একত্রে দিতে প্রস্তুত। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে— এডিবির এ প্রস্তুতির কথা জানান চিংফেং ঝাং। সবশেষে কপ৩১-এর আগে সময়োপযোগী সংলাপ আয়োজনের জন্য বণিক বার্তাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
