ভালোবাসার সম্পর্কে ঝগড়া, মান-অভিমান কিংবা মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু যে সম্পর্কে ভালোবাসা বেশি, সেখানে কি ঝগড়া কম হয়? নাকি ঝগড়া হওয়া মানেই সম্পর্কে সমস্যা রয়েছে? মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সম্পর্ক ভালো কি না, তা শুধু ঝগড়ার সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। বরং মতবিরোধের সময় দুজন একে অন্যের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (এপিএ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সম্পর্কবিষয়ক পরামর্শে সুস্থ সম্পর্কের জন্য খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও একে অন্যের কথা মন দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সম্পর্কে সব বিষয়ে একমত হওয়া জরুরি নয়। মতের অমিল হলেও কীভাবে তা সামলানো হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
ঝগড়া হলেই কি সম্পর্ক খারাপ?
দুজন মানুষের চিন্তা, পছন্দ ও প্রত্যাশা এক রকম হয় না। একজন হয়তো সঙ্গীর সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চান, অন্যজন কাজের ব্যস্ততায় তা সব সময় পারেন না। কেউ সমস্যা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই কথা বলতে চান, অন্যজন রাগ কমিয়ে পরে আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এসব পার্থক্য থেকেই তৈরি হতে পারে মনোমালিন্য।
তাই ঝগড়া না হওয়াই ভালো সম্পর্কের একমাত্র লক্ষণ নয়। বরং দুজন নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছেন কি না, একে অন্যের কথা শুনছেন কি না এবং মতের অমিল হলেও শ্রদ্ধা বজায় রাখছেন কি না, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
একই বিষয় নিয়ে বারবার ঝগড়া কেন?
অনেক দম্পতির মধ্যে অর্থ খরচ, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা একে অন্যকে সময় দেওয়া নিয়ে বারবার ঝগড়া হয়। সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউটের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে কিছু মতবিরোধ বারবার ফিরে আসতে পারে। সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সঙ্গীর ভিন্নতা বোঝা এবং মতপার্থক্য সামলাতে শেখা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একই বিষয় নিয়ে বারবার ঝগড়া হলেও যদি দুজনের কেউ কারও কথা শুনতে না চান কিংবা সমাধানের চেষ্টা না করেন, তাহলে সম্পর্কের সেই সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ঝগড়া সামলাবেন যেভাবে
দ্য গটম্যান ইনস্টিটিউটের পরামর্শ অনুযায়ী, মতবিরোধের সময় সঙ্গীকে দোষারোপ না করে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা এবং তাঁর বক্তব্য মন দিয়ে শোনা কার্যকর হতে পারে।
যেমন, ‘তুমি কখনোই আমার কথা ভাবো না’ বলার পরিবর্তে ‘তুমি সময় না দেওয়ায় আমার খারাপ লাগে’ বলা যেতে পারে। এতে অভিযোগের বদলে নিজের কষ্ট বোঝানোর সুযোগ তৈরি হয়। রাগের মুহূর্তে অপমানজনক কথা না বলা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কিছুটা সময় নিয়ে পরে আলোচনায় ফেরাও কাজে আসতে পারে।
তাহলে ভালো সম্পর্কে কি ঝগড়া কম হয়?
এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। কোনো সম্পর্কে ঝগড়া কম হতে পারে, আবার অন্য সম্পর্কে মতবিরোধ বেশি হলেও দুজনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া থাকতে পারে। সব সময় ঝগড়া এড়িয়ে চলাও ভালো সম্পর্কের নিশ্চয়তা নয়। সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার ভয়ে কেউ নিজের কষ্ট প্রকাশ না করলেও বাইরে থেকে সম্পর্কটি শান্ত মনে হতে পারে।
তবে অপমান, ভয় দেখানো, হুমকি কিংবা শারীরিক নির্যাতনকে স্বাভাবিক ঝগড়া বলে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
শেষ পর্যন্ত, ভালো সম্পর্ক মানে কখনো ঝগড়া না হওয়া নয়। বরং মতের অমিল হলেও একে অন্যকে সম্মান করা, ভুল হলে তা স্বীকার করা এবং সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে চেষ্টা করাই সুস্থ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: সম্পর্ক
১৩ অক্টোবর ২০২৬
১১ অক্টোবর ২০২৬
০৮ অক্টোবর ২০২৬
