ইউরোপে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। সেই বিক্ষোভের রেশ এখন ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় আছড়ে পড়েছে।
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জেবিনিয়ানায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশের সংশ্লিষ্টতায় কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিরল এ সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর উপশহর ইততাদামেনে মাদক ব্যবসার সন্দেহে আটক এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবারটি। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য গিলে ফেলার পর ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেন, টায়ারে আগুন দেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। এ সময় এলাকার একটি ন্যাশনাল গার্ড স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
দেশটির স্ফ্যাক্স গভর্নরেটের জেবিনিয়ানায় নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়ার সময় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। নিহত ব্যক্তির স্বজনদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়েছে।
তিউনিসিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা একটি গাড়িতে আগুন দেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
উপকূলীয় শহর স্ফ্যাক্সে আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এবার হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত এক ছাত্রীর মৃত্যুর জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে দায়ী করেছেন তারা।
সহপাঠীদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নিয়েছেন। চিকিৎসাসেবার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার স্ফ্যাক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবারের এসব সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন তিউনিসিয়ায় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। জীবনযাত্রার মানের অবনতি এবং জনসেবার নিম্নমান নিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়তে থাকায় দেশজুড়ে আরও বড় ধরনের সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাজধানীতে দেশটির প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের বিরুদ্ধে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারো মানুষ। তাদের অভিযোগ, সাঈদ গণতন্ত্রকে দুর্বল করছেন এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেন। এতে তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে।
এদিকে বুধবার তিউনিসিয়ার একটি সামরিক আদালত বিরোধী রাজনীতিক ওলফা হামদিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং সামরিক বাহিনীকে আদেশ অমান্য করতে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট সাঈদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। সূত্র: আল জাজিরা