নদীর পানি কমতে শুরু করেছে, ভাঙনও শুরু হয়েছে তীব্র আকারে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ভেঙেই চলেছে মধুমতি নদীর তীরে গড়ে ওঠা ব্রিটিশ আমলের বড়দিয়া নৌবন্দর। নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বন্দরের প্রায় ৫০০ ব্যবসায়ীসহ আশপাশের বাসিন্দারা।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মধুমতি নদী তীরে ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠে বন্দরটি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের জন্য ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) স্থানীয় প্রশাসনকে দুষছে। তারা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিয়া উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে চলা নদীটির অব্যাহত ভাঙনে বন্দরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ীসহ তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারীদের বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটছে। ইতোমধ্যে ৬০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার ভাঙন কবলিত স্থানে জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জগদীশ চন্দ্র বলেন, অনেকের বসতবাড়িসহ ব্যবসায়ীদের সর্বনাশের পর জিওব্যাগ এসে পৌঁছালো নৌবন্দরে। যেমনটি প্রবাদ রয়েছে-ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেল। ঠিক তেমনই অবস্থা হয়েছে আমাদের। কী সর্বনাশটাই না হলো। কেউ খোঁজ রাখে না।
কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বি এম বরকত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেছি। তাদের বলেছি নদীর পানি কমতে শুরু করলে ভাঙন শুরু হবে। কিন্তু নদী ভাঙনের হাত থেকে আমাদের কেউ রক্ষা করতে সময়মতো এগিয়ে আসেনি।
নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করেছেন। তিনি ভাঙনরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে জিওব্যাগ ফেলানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। কিন্তু সেই জিও ব্যাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ৬০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বসতবাড়ী নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এক সময় এই বন্দরে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। ভয়াবহ নদীভাঙনে অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীণ হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাউবোর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আপৎকালীন বরাদ্দ থেকে প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু সেটা করা হয়নি। জানি না ওই তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল কি না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ পেতেও একটু সময় লাগে।
কালিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, ইজারা দেওয়া বালুমহালের বাইরে গিয়ে কোনো ইজারাদার বালু উত্তোলন করলে তার ইজারা বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক স্যারকে জানানো হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলন করায় নদী তীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না। যথাযথ নিয়মেই কাজ করা হয়ে থাকে। বড়দিয়া নৌবন্দরের ভাঙন প্রতিরোধে প্রথমে দুই হাজার পাঁচশ জিও ব্যাগ ভাঙনকবলিত স্থানে ফেলা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও ফেলা হবে।
