কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুরে আরিফ মিয়া ওরফে সালমান (১৯) নিখোঁজের ৫ মাস পর তার কঙ্কালসহ লাশ সনাক্ত করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সালমানকে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ১৮ মে সন্ধ্যা অনুমানিক ৬টার দিকে আরিফ মিয়া ওরফে সালমান হোসেনপুর থানার সাহেদুল ইউনিয়নের কুড়িমারা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ইলিম বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেননি। এতে উদ্বিগ্ন আত্মীয়স্বজন অপরাপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে সালমানের খোঁজ না পাওয়ায় পরদিন ১৯ মে হোসেনপুর থানায় সালমানের পিতা মো. ফজলুল রহমান একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
পুলিশ সুপার জানান, সাধারণ ডায়েরি করা পর ভিকটিম সালমানকে উদ্ধারের লক্ষ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, ভিকটিম ও বন্ধুদের মোবাইল ডাটা, কথোপকথন সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে ভিকটিম সালমানকে তার বন্ধুরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা। এরই মধ্যে ভিকটিমের পিতা তার ছেলের সন্ধান না পাওয়ায় গতকাল শুক্রবার অজ্ঞাত আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন হোসেনপুর থানায়।
এরই মধ্যে মামলার তদন্তকালে ভিকটিমকে হত্যার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ায় ওসি ডিবি মো. বাহার মিয়ার নেতৃত্বে এক অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তারা হলেন পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুরের গোলাপ মিয়ার দুই ছেলে সাকিব (১৮) ও মাফি (১৫), মৃত মোতালেবের ছেলে রফিক (৪০) ও শামছুদ্দিনের ছেলে রমজান মিয়া (৩৫)।
পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে সালমানকে হত্যা করে লাশ গুম করার লক্ষ্যে নরসুন্দা নদীতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন তারা।
তিনি আরও জানান, আসামিদের দেখানো মতে ওই স্থান থেকে ভিকটিম সালমানের ব্যবহৃত গেঞ্জি, লাশের মাথার খুলি, বুকের পাঁজর ও বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ৭৭টি হার উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মামলার বাদী গেঞ্জি দেখে সালমানের লাশ হিসেবে সনাক্ত করেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
