কালাইয়ে ঐতিহ্যবাহী ধান ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র নুনুজ বাজার। আয়তনে ছোট হলেও কৃষিপণ্য বেচাকেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ হাট থেকে প্রতিবছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পায়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছেন হাটে আসা ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষ। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়কের তিনমাথা মোড়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। অন্যদিকে, কাঁচাবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত রাস্তা ও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে বেচাকেনা। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি হলেই নুনুজ বাজারের ব্যস্ততম তিনমাথা মোড়টি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের খানাখন্দে জমে থাকে পানি। এতে পথচারীদের পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় বিভিন্ন যানবাহনকে। বিশেষ করে ধান ও আলু পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ট্রাক চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। বছরের বিভিন্ন সময়ে এ হাট থেকে বিপুল পরিমাণ ধান ও আলু দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলেও তৈরি হয় ভোগান্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মোড়টির এমন বেহাল অবস্থা চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দুর্ভোগে পড়তে হয় হাটে আসা মানুষকে।
বাশিলাপাড়া গ্রাম থেকে জালি কুমড়া বিক্রি করতে আসা জামিরুল ইসলাম বলেন, হাটের নির্ধারিত জায়গায় বসার সুযোগ পাইনি। তাই অন্যের জায়গায় বসে পণ্য বিক্রি করছি। জায়গার অভাবে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনমাথা মোড়টির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেই। নুনুজ হাটে প্রচুর ধান ও আলু বেচাকেনা হয়। এখানে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। তাই হাটের সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ধান পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাকচালক জামাল বলেন, সারা বছরে নুনুজ বাজার থেকে শতাধিক ট্রাকে ২৫০ বস্তা করে ধান নিয়ে যাই। তিনমাথা মোড়টি এখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে গাড়ি পার করার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কয়েকবার বড় ধরনের বিপদের মুখেও পড়েছি।
তাদের অভিযোগ, সরকার হাট থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। নুনুজ হাটের ইজারাদার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জন্য ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে হাটটি ইজারা নিয়েছি। কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কসাইখানা ও কাঁচাবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় দিন দিন ক্রেতা-বিক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এতে প্রতি হাটবারে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। হাটের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, হাটের বিদ্যমান সমস্যা আমার নজরে এসেছে। দ্রুত হাটের জায়গা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
