তথ্য কমিশনের প্রথম নারী প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান। একই সঙ্গে সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রেস-২ শাখা থেকে দেওয়া দুটি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদেরকে এসব পদে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সরকার নির্ধারণ করবে।
যাত্রা শুরুর প্রায় দেড় যুগের মাথায় প্রথমবারের মতো কোনো নারীকে প্রধান হিসেবে পেল তথ্য কমিশন। গতকাল এ পদে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানকে নিয়োগ দেয় সরকার। এর আগে তথ্য কমিশনে ছয়জন প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আটজন ছিলেন তথ্য কমিশনার পদে। এর মধ্যে চারজন নারী তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রধান হিসেবে নারী পেল এবারই প্রথম।
সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে বিএনপি ঘরানার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে নাহরিন বেশি পরিচিতি পান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বৈঠকেও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার অংশগ্রহণ দেখা গেছে। তাকে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে জার্মানির মারবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশনীতি ও পরিবেশগত বিরোধ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার বোকু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেন্ডার স্টাডিজে ডিপ্লোমা লাভ করেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আওয়ামী লীগের সময় নিয়োগ পাওয়া প্রধান তথ্য কমিশনার আব্দুল মালেককে সরিয়ে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকে এ পদ ফাঁকাই ছিল। নাহরিন ইসলামকে প্রধান তথ্য কমিশনার করার পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী দুজন তথ্য কমিশনারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এদিন। দুই কমিশনার হলেন ইউএনবির সাবেক সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও দিনকালের সহকারী সম্পাদক খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন। এর মধ্যে মাহফুজুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটারের পদ থেকে সরিয়ে এ পদ দেওয়া হয়।