
সাইবার হামলার খবর অস্বীকার করে জনতা ব্যাংক জানিয়েছে, নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে ছুটির দিনে তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে একই সময়ে বেসরকারি বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও রক্ষণাবেক্ষণের বিজ্ঞপ্তি দেখা গেছে। দুই ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও সাইবার হামলার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি কোনো ব্যাংক।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ওয়েবসাইট দুটিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত নোটিশ দেখা যায়। জনতা ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের অ্যাপ্লিকেশনে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। শিগগিরই সেবা চালু করা হবে জানিয়ে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাংকটি।
অন্যদিকে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে তাদের ওয়েবসাইটের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সেবা চালুর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে গ্রাহকদের অপেক্ষা ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ১৬৭৯৬ নম্বরে ফোন করে অথবা নির্ধারিত ই-মেইলে যোগাযোগের পরামর্শও দিয়েছে ব্যাংকটি।
ওয়েবসাইট দুটি বন্ধ থাকায় গ্রাহকেরা সেখান থেকে ব্যাংকসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও অনলাইন সেবা নিতে পারছিলেন না। একাধিকবার চেষ্টা করেও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাইবার হামলার খবর নাকচ জনতা ব্যাংকের
রোববার বিকেলে পাঠানো এক বার্তায় জনতা ব্যাংক জানায়, তাদের মূল সার্ভার হ্যাক হওয়া কিংবা সাইবার হামলার শিকার হওয়ার খবর সঠিক নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেছে ব্যাংকটি। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যাংকটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সতর্কবার্তা আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসাসহ বিভিন্ন সংস্থার সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের প্রধান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নেয়।
এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে পরে আবার চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আগেও বন্ধ ছিল কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট
সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বন্ধ করে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট রোববার সকাল আটটা থেকে আবার চালু হয়েছে। একই সময়ে অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও বন্ধ ছিল। বর্তমানে সেগুলো সচল রয়েছে।
তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকলেও গত তিন দিনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন স্বাভাবিক ছিল বলে জানা গেছে। এতে গ্রাহকদের লেনদেনে সমস্যা হয়নি।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছিলেন, ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় শনাক্ত হওয়া দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি বিশ্বজুড়ে অনলাইন সেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ব্যাংকিং, সরকারি সেবা, ই-কমার্স ও সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যারের ব্যবহার বাড়ায় এ ধরনের ত্রুটি সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অর্থসূচক/
The post নিরাপত্তা সতর্কতায় বন্ধ জনতা ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইট appeared first on অর্থসূচক.
