পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকা জনপদ তৈকাতাং, আটবাড়ি, রেংখুম পাড়া, নারায়ণপাড়া আর রাবার বাগান। এখানকার মানুষের কাছে অসুখ মানে শুধু শরীরের কষ্ট নয়, সঙ্গে দীর্ঘ পথের দুর্ভোগ। উপজেলা সদরে যেতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। গুরুতর রোগী হলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর লড়াইটা আরও কঠিন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাইল্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসেছিল এক ব্যতিক্রমী চিকিৎসার আসর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পে সেবা পেয়েছেন সাত শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু।
সকাল থেকে বিকেল, চিকিৎসার এক দীর্ঘ দিন
সকালে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাসুদ খান, পিএসসি।
উপস্থিত ছিলেন জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল, জেডএসও মেজর সামিউল হকসহ সংশ্লিষ্টরা।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দিনব্যাপী চলা এই ক্যাম্পে নানা রোগে আক্রান্ত মানুষ ভিড় করেন। তাদের সেবায় ছিলেন একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ঢাকা থেকে আসা সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. নার্গিস আক্তার, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল জলিল, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুন্নেছা নাহার ডলি, গুইমারা সিএমএইচের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মেজর ডা. রায়হান এবং মাটিরাঙ্গা জোনের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন ডা. রাফিউল। পরামর্শের পাশাপাশি রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ওষুধ, কোনো খরচ ছাড়াই।
মাটিরাঙ্গা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাসুদ খান বলেন, “আমাদের জোনের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক চিকিৎসাসেবা থেকে পিছিয়ে ছিলেন। বিষয়টি অনুধাবন করে গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এই চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নিই। পাহাড়ের এই মেহনতী ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পেরে মাটিরাঙ্গা জোন পরিবার অত্যন্ত গর্ববোধ করছে।”
মিলনকান্তি ত্রিপুরা পাহাড়ি জনপদের চিকিৎসাসংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, “অসুস্থ হলেও দুর্গম যাতায়াতব্যবস্থার কারণে অনেক সময় চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না। জরুরি অবস্থায় রোগীকে কাঁধে করে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে হয়। নিজেদের এলাকায় চিকিৎসাসেবা পেয়ে আমরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।”
স্থানীয়রা জানান, যাতায়াতের অসুবিধা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া তাঁদের পক্ষে প্রায়ই সম্ভব হয় না। তাই নিজেদের এলাকায় এমন উদ্যোগ তাঁদের কাছে বড় সহায়তা। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও নিয়মিত এ ধরনের বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হবে।