অস্ট্রেলিয়ার দুই ভাই জেক রবিনসন ও ক্যালাম রবিনসন এবং তাদের মার্কিন বন্ধু কার্টার রোডকে হত্যার দায়ে তিনজনকে ১৫৮ বছর ৯ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন মেক্সিকোর একটি আদালত।
২০২৪ সালে মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি নির্জন সমুদ্রসৈকতে সার্ফিং করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তারা। বিচারের সময় আদালতে বলা হয়, তাদের গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর হত্যা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। কারণ, মেক্সিকোর অন্যান্য অঞ্চলে সহিংসতার ঘটনা থাকলেও ওই এলাকাকে সাধারণত নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
গত সপ্তাহে তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালতে নিহত দুই ভাইয়ের মা ডেবরা রবিনসন বলেন, তার ছেলেদের হত্যার মধ্য দিয়ে তাদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা সব স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
আইনি কারণে দণ্ডিত তিন ব্যক্তির পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাদের পরিচয় জানানো হয়েছে জেসুস জেরার্দো, ইরিনেও ফ্রান্সিসকো ও অ্যাঞ্জেল জেসুস নামে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এই হত্যাকাণ্ডের হোতা হিসেবে অভিযুক্ত জেসুস জেরার্দোর বান্ধবীকে পৃথক একটি মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ‘এল কেকাস’ নামে পরিচিত জেসুস জেরার্দোর ওই বান্ধবী ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।
আদালতে বলা হয়, নিহত তিনজনের মরদেহ একটি কূপে ফেলে রাখা হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকের মাথায় গুলির ক্ষত ছিল।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন শহর এনসেনাদার স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছিনতাইয়ের মতো একটি ঘটনার জেরে এত সহজে এবং কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তিনজনকে হত্যা করায় তারা বিস্মিত হন।
সার্ফারদের কাছে জনপ্রিয় ও অতিথিপরায়ণ স্থান হিসেবে পরিচিত এনসেনাদা। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেক্সিকোয় চরম সহিংসতার ভয়াবহ বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
কর্তৃপক্ষ হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে ব্যাখ্যা দিতে পেরেছিল, তা হলো—তিন সার্ফারই ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তাদের প্রত্যেকের বয়স ছিল ৩০ বছরের কিছু বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে প্রবেশের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হত্যা করা হয়। তবে মরদেহ উদ্ধারে আরও এক সপ্তাহ লেগে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহগুলো শনাক্ত করেন।