গেজেট প্রতিবেদন অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমেছে। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের বাজারে চাপ বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৫ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। এর আগের দিন বুধবার দাম কমে ৪ হাজার ১০৪ ডলার ৩৩ সেন্টে দাঁড়ায়, যা ১৫ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।
এদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩২ ডলার ৩০ সেন্ট হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) মূল্যসূচকের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি মূল্যায়নে ফেড এই সূচক ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির লক্ষ্য মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা।
রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় সব অর্থনীতিবিদের ধারণা, অক্টোবরে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে ফেড। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৬ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তারা ৯০ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হয়। কারণ, স্বর্ণে বিনিয়োগ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদ তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ৩৩ সেন্টে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬০৯ ডলার ৯৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৮ ডলার ৫২ সেন্ট হয়েছে।
খুলনা গেজেট/এনএম
