বগুড়ার ধুনটে নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে পরিচালিত জরিপে বেশকিছু নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত হলেও নতুন করে পরীক্ষা করা হয়নি। এদিকে, আর্সেনিকযুক্ত ও নিরাপদ নলকূপ চিহ্নিত করার লাল-সবুজ সংকেত মুছে যাওয়ায় কোন নলকূপের পানি পান করা নিরাপদ, তা বুঝতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালে ধুনট উপজেলার ২৫ হাজার নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬১৮টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষায় ১২১টি নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়।
জরিপের সময় আর্সেনিকযুক্ত নলকূপগুলো লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে সেগুলোর পানি ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক ও আর্সেনিকমুক্ত নলকূপে সবুজ রং দিয়ে সেগুলোর পানি ব্যবহারের উপযোগিতার সংকেত দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার কিটের সংকট দেখিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকে অবশিষ্ট নলকূপগুলোর পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়নি। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরায় চিহ্নিত করার উদ্যোগ না থাকায় অনেক নলকূপ থেকে লাল সবুজ সংকেতও মুছে গেছে।
ফলে কোন নলকূপের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে আর কোনটির পানি নিরাপদ তা বোঝার সুযোগ কমে গেছে। সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে পানির নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই নলকূপের পানি পান করছেন। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আর্সেনিকের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় উপজেলার সব নলকূপের পানিতে নতুন করে আর্সেনিক পরীক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ নলকূপগুলো পুনরায় চিহ্নিত করা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
