চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পরিবেশ আইন না মেনে দেদার চলছে পাহাড় কাটা। বাড়ি নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পাহাড় কাটছে এসব চক্র। রাতের আঁধারে মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে গেলেও এ বিষয়ে প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলছেন না কেউ।
সরেজমিনে উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের আদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুর্ব পার্শ্বে তিতারচর সীমানায় গলাছিড়া মুড়া (পাহাড়) নামক এলাকায় পাহাড় কাটার দৃশ্য দেখা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকাবাসী ও প্রশাসন থেকে পাহাড় কাটার ঘটনা আড়াল করতেই রাত ১১টার পর থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ৭/৮টি ডাম্পার গাড়ি দিয়ে পাহাড়ের মাটি বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। এসব ঘটনা যেন কারও চোখে না পড়ে এ জন্য তারা রাতকেই মাটি পাচারের মোক্ষম সময় হিসেবে বেছে নিয়েছে পাহাড় খেকোরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, যারা পাহাড় কাটছে তারা এলাকার প্রভাবশালী। তাদের নাম বললে আমাদের ক্ষতিসাধন করতে পারে। আমাদের সবারই তো পরিবার-পরিজন আছে। তাই আমরা এসব প্রকাশ করে নিজেদের বিপদ ডেকে আনতে পারবো না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সেলিম জানান, পাহাড় কাটার বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছে।তিনি পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনকে অবগত করবেন।
এদিকে, পাহাড়টি কেটে ফেলায় প্রকৃতি ও পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ঠ হচ্ছে। পাহাড়ের বুক ছিড়ে নিয়ে গেলোও কারো হুশ-জ্ঞান নেই।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ অপরাধ। পাহাড় যদি খতিয়ানি জায়গাও হয় সেক্ষেতেও পাহাড় কাটা যাবেনা। পাহাড় খেকোদের কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
