দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১১০ জন। সব মিলিয়ে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪ জনে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ১৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এ বিভাগে নতুন করে ৫৫৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১১৫ জন, সিলেট বিভাগে ৯৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৫ জন, খুলনা বিভাগে ৬০ জন, রংপুর বিভাগে ২৪ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন। তবে নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, সন্দেহজনক রোগীদের একটি অংশের ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে, আর বাকিদের বিষয়ে উপসর্গ ও পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
হাম একটি সংক্রামক রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজে ছড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোগের জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। তবে হামে ও এর উপসর্গে মৃত্যুর হিসাব আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন, কারণ উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সব রোগীর ক্ষেত্রে হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত নাও হতে পারে।
-20261023101126.jpg&w=1440&q=75)