নরসিংদীর রায়পুরায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের অটোরিকশা ছিনিয়ে নিতে মনির হোসেন (১৬) নামে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ বিলের পানিতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। পরে অটোরিকশাটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নরসিংদী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পিবিআই নরসিংদীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম মিয়ার ছেলে মনির হোসেন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে মনিরের বাবা শাহ আলম মিয়া রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
গত ৫ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ শিকদারপাড়া (দরগাবাড়ি) সংলগ্ন বিলের পাড়ে কচুরিপানার মধ্যে একটি মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি মনির হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পিবিআই নরসিংদীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে উপপরিদর্শক আশরাফ আলী মামলাটির তদন্ত শুরু করেন।
পিবিআই জানায়, তদন্তে হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ অক্টোবর বিকেলে আসাদ মিয়া ওরফে এরশাদ (৩৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। জেলার ঘোড়াশাল বাগপাড়া বুরুজেরটেক এলাকার বাছেদ মিয়ার বসতবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত মনিরের অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ মিয়া অটোরিকশাটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার লালমাই বাজারসংলগ্ন আইটি পার্ক থেকে জাহিদুল মিয়া (৩০) নামে অপর এক আসামিকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মনিরের প্যান্টের বেল্ট দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বিলের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।
গ্রেফতারের পর ১৫ অক্টোবর দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
