আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত ও চীনের জন্য স্বস্তির খবর। রাশিয়ার তেল কেনার উপর শুল্ক তুলে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনে আগ্রাসনের জন্য মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে গত সপ্তাহে একটি আইনে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। এর কয়েক সপ্তাহ পরে রাশিয়ার উপর চাপিয়ে দেওয়া বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক তুলে নিল হোয়াইট হাউস।
আগামী ৩ নভেম্বরের আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে মূল্যবৃদ্ধি এবং তেলের দাম চিন্তায় ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। আকাশছোঁয়া ডিজেলের দাম কমাতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন ট্রাম্প। সেপ্টেম্বরে দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬.৫২ ডলারে পৌঁছেছিল এবং শুক্রবার তা প্রায় ৬.২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ডিজেলের উচ্চমূল্য পরিবহন ও কৃষি খরচ বাড়ায়, এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়। ট্রাম্প জ্বালানির খরচ কমানোর একটি উপায় হিসেবে হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবস্থানের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ভারতের মতো দেশগুলির উপর থেকে চাপ কিছুটা কমাতেও চাইছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ‘দেশের স্বার্থে’ তাঁকে এই পদক্ষেপ করতে হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে জারি করা একটি আদেশে ট্রাম্প বলেন, “আমি গ্রাহাম আইনে জারি করা নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ এবং শুল্কের প্রয়োগ মকুব করছি। আমি কংগ্রেসের কাছে একটি সার্টিফিকেট জমা দিয়েছি যে, এই সময়ে এই ধরনের আদেশ জারি করা হল আমেরিকার স্বার্থে।”
কয়েক দিন আগেই ট্রাম্পে তাঁর সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর খুবই অর্থবহ এবং সফল একটি কথোপকথন হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, মস্কো অবিলম্বে তিন লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে এবং নভেম্বর ও পরবর্তী মাসগুলিতে আরও ডিজেল পাঠাবে।
গত বছর ভারত ও আমেরিকার সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্প পারস্পরিক ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ভারতে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। তবে, আমেরিকা-ভারত বাণিজ্য কাঠামোর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়া হয় এবং পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।
মার্কিন কংগ্রেস গত মাসে নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করানোর পরে, ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, “এর আগেও বহুবার যেমন বলা হয়েছে, ভারত তার ১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বৈচিত্র্যময় উৎস এবং পরিবর্তনশীল বাজারের গতিপ্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ভারত তা অব্যাহত রাখবে।”
