বরগুনার পাথরঘাটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের উদীয়মান অপতৎপরতা রুখতে এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে থানা-পুলিশ। পৌর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে কিশোর গ্যাং সদস্য ও অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে তাৎক্ষণিকভাবে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় জব্দ করা হয়েছে নয়টি মোটরসাইকেল।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সার্বিক নেতৃত্ব দেন পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহেদ আহমেদ চৌধুরী। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে হঠাৎ করেই পুরো পৌর এলাকায় অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাথরঘাটা থানা-পুলিশের ইনসিডেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, আটকদের বয়স ১৪ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী অন্তত ছয়জন কিশোর রয়েছে, যারা কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় বলে জানা গেছে। আটকরা পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ছাড়াও উপজেলার বাদুরতলা, ছোট পাথরঘাটা, দক্ষিণ পাথরঘাটা, কালীবাড়ি, পদ্মা, রুহিতা, ছোট টেংরা, দক্ষিণ কুপধন, কাঞ্চুরহাট ও পূর্ব কালমেঘা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের পরিচয়, পূর্ব অপরাধের ইতিহাস ও অন্যান্য অপরাধমূলক সংশ্রব নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জব্দ করা ৯টি মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকানা ও রেজিস্ট্রেশনের বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা ওসি আব্দুল আলিম জানান, ‘সম্প্রতি পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও মাদকের বিস্তৃতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে এবং উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এসব সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, সব অপরাধীকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পাথরঘাটার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর থাকবে।
