যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বলরুম সংস্কার প্রকল্পে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও সিসকোর মতো প্রযুক্তি জায়ান্ট কোটি কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সংস্কার প্রকল্পের জন্য চিপ নির্মাতা কোম্পানি এনভিডিয়া, আইফোন নির্মাতা অ্যাপল প্রত্যেকে আড়াই কোটি ডলার করে অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
মোট ৩৩ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহের এ তালিকায় কোম্পানি দুটির অনুদানই সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনভিডিয়ার একজন মুখপাত্র বলেছেন, “মার্কিন কোম্পানি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের সমর্থন সর্বাগ্রে ও এটা আমাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বাইরে।
“সব আমেরিকান নাগরিকের সেবায় নিয়োজিত এক নিরপেক্ষ ট্রাস্টে অনুদান দিতে পেরে আমরা গর্বিত এবং এটা করার পর থেকেই আমরা তা প্রকাশ্যে জানিয়ে আসছি।”
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য বলছে, এ প্রকল্পে কোটি কোটি ডলার অনুদান দেওয়া অন্য প্রধান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যামাজন, প্যালান্টির, সার্ভিসনাও, মেটা ও মাইক্রোসফট।
তবে, এই তালিকার বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মাইক্রোসফট ও মেটা। অন্যদিকে, ৫০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিসকো ও সার্ভিসনাও।
এক বিবৃতিতে সার্ভিসনাও বলেছে, “মার্কিন সরকারের সঙ্গে সার্ভিসনাও-এর ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পূর্ণ আলাদা ও আমরা যেসব অনুদান দিই তার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
“এ দুটি বিষয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের যে কোনো চেষ্টা পুরোপুরি ভুল ও বিভ্রান্তিকর।”
এদিকে, প্রতিবেদনে মোটা অংকের অনুদানকারী হিসেবে নাম আসা অ্যামাজন, অ্যাপল, এইচপি, মাইক্রন, প্যালান্টির, সেলসফোর্স ও ভাস্ট স্পেস-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পায়নি সিএনবিসি।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, বলরুম সংস্কারের অর্থ অলাভজনক ট্রাস্টের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এর জন্য দাতারা ‘ডনাল্ড জে. ট্রাম্প বলরুম’-এ অনুদানের একটি অঙ্গীকারনামা ফরম গ্রহণ করেছেন।
তবে এ প্রকল্পে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও কর্পোরেট কোম্পানির অনুদান নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা।
তারা এ তহবিলে অর্থ দেওয়া ব্যক্তি ও কোম্পানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে এ ধরনের মোটা অংকের অনুদান সরকারের নীতি নির্ধারণ বা সরকারি চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
ট্রাম্প সরকারের ব্যবসা-বান্ধব ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত নীতি প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন পেয়ে আসছে।
তার দ্বিতীয় মেয়াদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতের চুক্তির মাধ্যমে একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানি শত শত কোটি ডলারের ব্যবসা নিশ্চিত করেছে।
মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ ও এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিরা ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের একাধিক নৈশভোজ ও বৈঠকে নিয়মিত উপস্থিত থেকেছেন।
২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে আয়োজিত ‘এআই মধ্যাহ্নভোজেও’ তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা নথি অনুসারে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পর্যন্ত ১০ হাজার ডলারের বেশি অংকের ৬৭টি অনুদান পাওয়া গেছে।
