ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম-সহ ১০ জন বিধায়কের বিধায়কপদ খারিজের আবেদন নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ তৃণমূল শিবিরের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। বাকি বিধায়কদের মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের টিকিটে ভোটে জেতা বিধায়কদের অনেকেই মমতার হাত ছাড়েন। ঋতব্রতের নেতৃত্বে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়ে তাঁরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন। যদিও কালীঘাট শিবির তা মানতে চায়নি। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেবের নাম প্রস্তাব করেছিল মমতা তৃণমূল। কিন্তু ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন বিধায়কেরা তা মানতে চাননি। তাঁরা ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা বেছে নেন। বিক্ষুব্ধ সন্দীপনের প্রস্তাব অনুযায়ী স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করেন। ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শোভনদেব কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। আদালত স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি।
গত সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্রোহী বিধায়কদের পদ খারিজ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। ২৮ সেপ্টেম্বর সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই ধরনের কোনও আবেদন স্পিকারের কাছে জমা পড়লে তিন মাসের মধ্যে তার নিষ্পত্তি করতে হয়। এ ক্ষেত্রেও স্পিকার তা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি। মমতা তৃণমূলের তরফে স্পিকারের কাছে আবেদন জমা পড়েছিল ৮ জুলাই। সেই হিসেবে ৮ অক্টোবর তিন মাস সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এখনও স্পিকারের সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। সেই কারণে আবার সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হল। এ বার ঋতব্রতদের বিধায়কপদ খারিজের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলেন শোভনদেব।
ঋতব্রত, ফিরহাদ ছাড়াও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে সন্দীপন সাহা, অরূপ রায়, শিউলি সাহা, আখতারুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র এবং জাভেদ আহমেদ খানকে। এ ছাড়া, বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিও মামলায় যুক্ত হয়েছেন। দলত্যাগবিরোধী আইনে বিধায়কদের পদ খারিজ চেয়েছেন শোভনদেব।
আসল তৃণমূল কারা, তৃণমূলের নাম, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং জোড়াফুল প্রতীক চিহ্ন কাদের দখলে থাকবে, তা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে দ়ড়ি টানাটানি চলছে। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে দুই শিবিরই নিজেদের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও পক্ষ স্থায়ী ভাবে দলের নাম এবং প্রতীকের উপর নিয়ন্ত্রণ পায়নি। জোড়াফুল চিহ্ন উপনির্বাচনের আগে ফ্রিজ় করে দেয় কমিশন। পরিবর্তনে মমতা শিবির ‘ফুটবলার’ চিহ্ন পায়। তাদের নাম হয় মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য দিকে, ঋতব্রতের শিবির গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নামে ‘খাম’ প্রতীকে ভোটে লড়েছে।
