সন্তান জন্মগ্রহণের পর শুকরিয়াস্বরূপ যে পশু জবাই করা হয়, তাকে আকিকা বলে। আর আকিকা করা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সন্তানের জন্য আকিকা করতে হয়। সুতরাং তোমরা তার (সন্তান) পক্ষ থেকে জবাই করো এবং এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।’ (বোখারি: ২/৮২২)
অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক নবজাতক তার আকিকার সঙ্গে আবদ্ধ থাকে। তার জন্মের সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে আকিকার পশু জবাই করা হবে, তার মাথার চুল মুণ্ডন করা হবে এবং তার নাম রাখা হবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৮৩৮)
তবে, সন্তান জন্মের পরপরই বা আকিকার সময় নাম রাখতে গিয়ে অনেকেই ভুলবশত অসুন্দর নাম রেখে ফেলেন। যে কারণে পরবর্তীতে তারা সন্তানের নাম পরিবর্তন করতে চান। এ ক্ষেত্রে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন যে, আকিকার পর পুনরায় সন্তানের নাম রাখা যাবে কি না এবং এর জন্য দ্বিতীয়বার আকিকা করতে হবে কি না।
এ বিষয়ে কালবেলার পাঠকদের জন্য সমাধান জানিয়েছেন রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তু সালামের (মিরপুর-১২) ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আব্দুর রহমান হোসাইনী। তিনি জানান, আকিকার পর দ্বিতীয়বার সন্তানের নাম রাখা বা পরিবর্তন করা যাবে। এর জন্য নতুন করে আকিকাও করতে হবে না।
মুফতি আব্দুর রহমান বলেন, ‘যদি আকিকা করা হয়ে থাকে এবং শিশুর নামও রাখা হয়ে যায়— এ অবস্থায় আগের নাম পরিবর্তন করে দ্বিতীয় কোনো নাম রাখতে চাইলে তা জায়েজ আছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার আকিকাও করার কোনো প্রয়োজন নেই।’
‘হাঁ, যদি শিশুর প্রথম নামের অর্থ ভালো হয়, তবে তা পরিবর্তন করার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে যদি খারাপ বা অর্থহীন হয়, কিংবা এমন নাম হয় যা শরিয়তের রুচিবোধের পরিপন্থি; তবে সেই নাম পরিবর্তন করা এটি একটি সওয়াবের কাজ।’
তিনি জানান, রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেক সাহাবির নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিলেন যাদের আগের নামের অর্থ খারাপ ছিল।
হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) খারাপ নাম পরিবর্তন করে দিতেন। (জামে তিরমিজি: ২৮৩৯)
অন্য হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত জায়নাব (রা.)-এর নাম ছিল ‘বাররাহ’ (নেককার)। তখন কেউ বলল, এতে তিনি নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করছেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর নাম রাখলেন ‘জায়নাব’। (সহিহ বোখারি: ৬১৯২)
এ ছাড়াও নবীজি (সা.) এক নারীর নাম ‘আসিয়া’ থেকে পরিবর্তন করে ‘জামিলা’ রেখেছিলেন। (সহিহ মুসলিম: ২১৩৯)
মুফতি আব্দুর রহমান সবশেষে বলেন, ‘‘সন্তানের সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখা মা-বাবার ওপর অন্যতম একটি হক বা অধিকার। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন তোমাদের ডাকা হবে তোমাদের স্ব-স্ব নাম ও পিতার নাম সহকারে। অতএব তোমরা ভালো নাম রাখবে’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৮)। তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে আমরা সতর্ক থেকে নাম রাখব, যাতে দ্বিতীয়বার সেটা পরিবর্তন করতে না হয়।’’
যদি নামের অর্থ শিরকপূর্ণ হয় (যেমন: আব্দুশ শামস বা সূর্যের দাস ইত্যাদি), তবে তা পরিবর্তন করা ফরজ। যদি অর্থ কেবল শ্রুতিকটু বা অশুভ হয়, তবে তা পরিবর্তন করা সুন্নত বলেও জানান তিনি।
