এল নিনো এমন একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত খরা ও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিচ্ছে।
এল নিনো ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে আগামী বছর বৈশ্বিক পাম অয়েল উৎপাদন ২০ লাখ টন কমতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকৃত ঘাটতির পরিমাণ এ পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হতে পারে। ফলে বিশ্ববাজারে পাম অয়েল সরবরাহে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন আমদানিকারক দেশ মুখোমুখি হতে পারে নতুন করে সংকট ও চ্যালেঞ্জের। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
জার্মানির হামবুর্গভিত্তিক পণ্যবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান অয়েল ওয়ার্ল্ডের নির্বাহী পরিচালক টমাস মিয়েলকে সম্প্রতি এ পূর্বাভাস দিয়েছেন। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এক শিল্প সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘২০২৭ ও ২০২৮ সালে পাম অয়েল উৎপাদনে এল নিনো ও জলবায়ুসংশ্লিষ্ট অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির বড় প্রভাব পড়তে পারে। উৎপাদন কমার বিষয়ে বর্তমানে যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, তা বেশ সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে ফলন আরো কমতে পারে।’
এল নিনো এমন একটি আবহাওয়াগত পরিস্থিতি, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত খরা ও শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিচ্ছে। পাম অয়েল উৎপাদনকারী প্রধান দুই দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় সাধারণত এ সময়ে তাপমাত্রা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত কমে যায়। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিপণ্যের উৎপাদনে দেখা দিতে কিছুটা সময় লাগে। ফলে এল নিনোর পূর্ণ প্রভাব আগামী মৌসুমে আরো স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।
টমাস মিয়েলকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়ায় আগামী বছর উৎপাদন কমে ১ কোটি ৯২ লাখ থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকেও আগামী বছর রফতানি কমার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বিকল্প উৎস থেকে প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। উৎপাদন ও রফতানি—দুই দিক থেকেই সরবরাহ কমলে বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের প্রাপ্যতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হবে।
ভোজ্যতেল, প্রক্রিয়াজাত খাবারসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্যে পাম অয়েল ব্যাপক হারে ব্যবহার হয়। ফলে পণ্যটি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে অন্যান্য ভোজ্যতেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
