অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনিতে আগামীকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) শুরু হচ্ছে বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা। বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ক্যাম্পসির ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি থাকছে সংগীত, নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন, বিশেষ সম্মাননা, র্যাফেল ড্র এবং পূজা সাময়িকীর প্রকাশনা। রোববার (১৮ অক্টোবর) শেষ হবে দুই দিনের অনুষ্ঠান।
জানা গেছে,, শনিবার সকাল ৯টায় শুরু হবে উৎসবের আয়োজন। রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত দুই দিনের অনুষ্ঠানসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সিডনির ক্যাম্পসির ১৫৫ বিমিশ স্ট্রিটে অবস্থিত ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে এ আয়োজনে অংশ নিতে কোনো প্রবেশমূল্য লাগবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
অায়োযক সংগঠনের ৩২ বছরের পথচলাকে ঘিরে এবারের দুর্গাপূজায় থাকছে বিশেষ আয়োজন। প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ‘বিপিএ অ্যাওয়ার্ড’। সামাজিক সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ, সংস্কৃতিচর্চা ও কমিউনিটির উন্নয়নে অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই সম্মাননা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংগঠনটির বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সম্মানিত করা হবে বলে জানা গেছে।
উৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজনে গান পরিবেশন করবে সিডনির জনপ্রিয় ধূমকেতু ব্যান্ড। স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণেও থাকছে সংগীত ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দুই দিনের অনুষ্ঠানে পূজার ধর্মীয় আচার, ভক্তদের অঞ্জলি, আরতি এবং প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলার আয়োজন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে দেশীয় খাবারের আয়োজন। র্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রকাশিত হচ্ছে ১৩০ পৃষ্ঠার বিশেষ সাময়িকী ‘অঞ্জলি’। এতে বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার লেখক-কবিদের লেখা স্থান পেয়েছে। গল্প, কবিতা, স্মৃতিচারণ ও বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল লেখাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাময়িকীর সম্পাদনা পরিষদের সদস্য তুষার রায় জানিয়েছেন,এবারের প্রকাশনায় বিভিন্ন দেশের লেখকদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেওয়াও এই প্রকাশনার অন্যতম উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দিবাকর সমদ্দার জানিয়েছেন,দুর্গাপূজাকে ঘিরে সংগঠনের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। মণ্ডপের সাজসজ্জা থেকে শুরু করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, অতিথি আপ্যায়ন ও সম্মাননা আয়োজনের জন্য পৃথকভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর আগে সংগঠনটির দশম মহালয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
সংগঠনের সভাপতি দিলীপ দত্ত জানিয়েছেন,তিন দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ পূজা অ্যাসোসিয়েশন সিডনিতে বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে কাজ করছে। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে সংগঠনের সাবেক নেতৃত্বের অবদানকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কমিউনিটির জন্য কাজ করা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন ধরে রাখারও একটি উপলক্ষ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির ঐতিহ্য, ধর্মীয় রীতিনীতি ও উৎসবের আনন্দ তুলে ধরতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার ও রোববার দুই দিনই ক্যাম্পসির ওরিয়ন ফাংশন সেন্টারে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বী বাংলাদেশিরা। উৎসবের পাশাপাশি পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, পরিবার-পরিজনের মিলন এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপ—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
