দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘ফিডব্যাক’ পথচলায় পাঁচ দশকে পদার্পণ করেছে। এ উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়েছে ব্যান্ডদলটির পক্ষ থেকে। এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন ফিডব্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য খ্যাতিমান সুরকার, সংগীত পরিচালক ফুয়াদ নাসের বাবু। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরফান হোসাইন রাফি
পাঁচ দশকের সুদীর্ঘ যাত্রাপথে পদাপর্ণ করতে পেরে কেমন লাগছে?
সত্যি বলতে– এটা কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটা বড় প্রাপ্তি আমার জীবনের জন্য। একজন মানুষের আয়ু কতটুকুই-বা থাকে! পঞ্চাশটা বছর এই দলের সঙ্গে কাটিয়ে দিলাম। সেই প্রথম দিন থেকে আজ অবধি দলের সঙ্গেই আছি। এর মধ্যে অনেকেই দল ছেড়েছেন, অনেকেই এসেছেন। আগামী বছর এই অক্টোবরে আমাদের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হবে। এ বছর থেকেই আমরা কাজগুলো শুরু করে দিয়েছি।
এ উপলক্ষে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?
হ্যাঁ, আগামী বছর আমরা একটি বিশেষ অ্যালবাম রিলিজ করার পরিকল্পনা করছি। ৭ থেকে ৮টি গান থাকবে এতে। এর মধ্যে ৪-৫টি গানের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে অ্যালবামটির নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি সিডির বাজার না থাকলেও প্রতীকী ৫০০ কপি সিডি প্রিন্ট করে রাখার ইচ্ছে আছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গান শোনার পাশাপাশি কেউ চাইলে আমাদের থেকে এগুলো সংগ্রহ করতে পারবে।
পাঁচ দশকের পথচলায় কোন স্মৃতিটি আপনার কাছে সবচেয়ে মধুর মনে হয়?
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো শ্রোতাদের ভালোবাসা। কোথাও গেলে যখন কেউ এসে বলেন, ‘ভাই, আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন আপনার গান শুনতাম’ কিংবা ‘কলেজে থাকতে আপনাদের গান শুনতাম’, তখন খুবই ভালো লাগে। মানুষের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিতে আমাদের গান জড়িয়ে আছে, এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!
ফিডব্যাকের সোনালি সময় কখন ছিল বলে মনে করেন?
নব্বইয়ের দশক। এই সময়টাতে খুব ভালো ভালো কাজ হয়েছিল। আমরা যখন শুরু করি, তখন তো অনেকে সংগীতটাই বুঝত না। সে সময় আমরা সত্যিই অনেক ভালো ভালো কাজ করেছি। তখন আমাদের সঙ্গে মাকসুদুল হক ছিলেন, পিয়ারু খান ছিলেন, সেলিম হায়দারসহ অন্যরা ছিলেন। সবাই মিলে দারুণ একটা সময় পার করেছি। তা ছাড়া সে সময় আমাদের ব্যান্ডের ‘বঙ্গাব্দ ১৪০০’ অ্যালবামটি প্রকাশ পায়, সেটি তৈরিতে আমরা ভীষণ পরিশ্রম করেছিলাম এবং কাজটাও দারুণ হয়েছিল। এটি আমার প্রিয় অ্যালবামের একটি।
ফিডব্যাকে কত মুখ এল আর গেল; আপনার ক্ষেত্রে কোন মায়া বা অনুরাগের টানে কখনো এই আঙিনা ছেড়ে যাওয়া হলো না?
আসলে ব্যান্ডটাকে তো আমি শুধু একটা গানের দল হিসেবে দেখি না, এটাকে একটা প্রতিষ্ঠানের মতো মনে করি। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখলে এটার প্রতি একটা আলাদা দায়িত্ব, যত্ন আর রক্ষণাবেক্ষণের অনুভূতি তৈরি হয়। সেই দায়বদ্ধতা আর ভালোবাসা থেকেই সব সময় এর সঙ্গে থেকে যাওয়া।
দীর্ঘ পথচলায় অজস্র প্রাপ্তির মধ্যে এখনো কোনো অপ্রাপ্তি আছে?
প্রাপ্তি থাকলে কিছুটা অপ্রাপ্তি বা আক্ষেপ থাকবেই, এটাই স্বাভাবিক। তবে কোথায় অপূর্ণতা রয়েছে, তা আমি কখনো ভেবে দেখিনি। আমার কাছে মনে হয়, যতটুকু পেয়েছি, নিজের যোগ্যতার চেয়ে অনেক বেশিই পেয়েছি।
বর্তমান সময়ের কারও গান শোনা হয়?
এখন তো অনলাইনে সব গানই পাওয়া যায়, অনেকের গানই শোনা হয়। আর্টসেল, নেমেসিস, রাফাসহ অনেকের গান শুনি। অনেকেই অনেক ভালো কাজ করছে।
নতুন প্রজন্ম ও শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন…
আমরা যে ধরনের গান করি, সেটা মূলত ‘বাংলা রক’। শ্রোতাদের বলব, আপনারা দেশি-বিদেশি সব ধরনের সংগীতই শুনবেন, তবে পাশাপাশি অবশ্যই আমাদের নিজেদের বাংলা গান বেশি বেশি শুনবেন ও ভালোবাসা বজায় রাখবেন।
