জয়পুরহাটের কালাইয়ে ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় ছামছুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভাবের কারণে সম্প্রতি নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের মাত্রাই বাজার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ছামছুল ইসলাম উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের শাইলগুণ গ্রামের সামসুদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর ছামছুলের পকেট থেকে ইরানের একটি প্রেসক্রিপশন পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ছামছুল বলেন, মাসখানেক আগে তিনি চট্টগ্রামে কাজ করতে যান। সেখানে মাসুম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে কিডনি ক্রয় ও প্রতিস্থাপনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়। একপর্যায়ে তাঁর পাসপোর্ট ও ভিসার ব্যবস্থা করে তাঁকে ইরানে নেওয়া হয়। সেখানে এক নারী ব্যবসায়ীর শরীরে তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন ছামছুল। অভাবের তাড়নায় তিনি কিডনি বিক্রি করেছেন বলে বারবার দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে তাঁর বাবা শামসুদ্দিন মুঠোফোনে ছেলের কিডনি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কোথায়, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে কিডনি বিক্রি করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির মামলায় ছামছুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অল্প কিছুদিন আগে তাঁর একটি কিডনি বিক্রি করা হয়েছে বলে তাঁরা ধারণা করছেন। কিডনি বিক্রির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
