একই পরিবারের তিন ভাই, তিনটি স্বতন্ত্র কর্মজীবন, অথচ সবার শিকড় এক। শিক্ষা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠাকে পুঁজি করে তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তাঁদের সাফল্য শুধু পরিবারের গর্ব নয়, জন্মভূমি শ্যামপুর ও প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়েরও গৌরব।
মোহাম্মদ শাহীন ইমরান, মোহাম্মদ তুহিন ইকরাম ও মোহাম্মদ আবু সুজাত ইকবাল—এই তিন ভাইয়ের বাবা আব্দুস সামাদ তালুকদার এবং মা হালিমা খাতুন। তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও তিন বোন। বাবা-মায়ের স্নেহ, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ তাঁদের জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বড় ভাই মোহাম্মদ শাহীন ইমরান ১৯৯১ সালের পাইলটিয়ান। মেধা, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের স্বাক্ষর রেখে তিনি আজ সরকারের উপসচিব।
মেজো ভাই মোহাম্মদ তুহিন ইকরাম ১৯৯৪ সালের পাইলটিয়ান। কর্মদক্ষতা ও পেশাগত নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছোট ভাই মোহাম্মদ আবু সুজাত ইকবাল ব্যাচ ১৯৯৫—এই লেখার কথক। শ্যামপুর স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি, এরপর মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে ২৮তম ব্যাচে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ। বর্তমানে যমুনা ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিন ভাইয়ের কর্মক্ষেত্র ভিন্ন—সরকারি প্রশাসন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যাংকিং খাত। কিন্তু তাঁদের সাফল্যের অন্তর্নিহিত শক্তি একই: শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা, নিরলস পরিশ্রম এবং দায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকার।
এখানে শ্যামপুরের মাটি দিয়েছে শিকড়, মোহনগঞ্জ পাইলট গড়ে দিয়েছে শিক্ষার ভিত্তি, বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার দিগন্ত প্রসারিত করেছে। সেই পথ পেরিয়ে কর্মজীবনের সাফল্য অর্জনের প্রতিটি ধাপ হয়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের সাক্ষ্য।
অদম্য মেধাবী এই তিন ভাইয়ের গল্প তাই কেবল সাফল্যের নয়, সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার গল্প। এটি শেখায়, জন্মস্থান বা পারিপার্শ্বিকতা নয়—স্বপ্ন, শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম ও সততাই মানুষকে সামনে এগিয়ে নেয়।
মোহনগঞ্জ পাইলটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁদের এই অর্জন বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করুক, আর তাঁদের পথচলা আগামী প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে ও সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করুক।
শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন তিন ভাইকে-নিজেদের সাফল্যে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জন্মভূমির মুখ উজ্জ্বল করার জন্য।
