শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তা, মৃত শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা বাবদ অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৫৮৩ জন শ্রমিকের মাঝে প্রায় ৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের জন্য আজকের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমিকদের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় অনুদান।
শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিয়তই নির্দেশনা দিচ্ছেন যে শ্রমিকরা সুস্থ থাকলে উৎপাদন বাড়বে, আর শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার আগে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাদের লভ্যাংশের নির্ধারিত অংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে দিত না।
বর্তমানে আমরা সেই বকেয়া অর্থ আদায় করছি এবং তা সরাসরি শ্রমিকদের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছি।
মালিক ও শ্রমিকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন ও আয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটলে আমরা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে নিতে পারব। এজন্য রাজপথে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে এর জন্য কলকারখানা সচল রাখতে হবে এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কোনো প্ররোচনায় না পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কলকারখানায় কোনো অনিয়ম হলে তা শ্রম পরিদর্শকদের জানান। কোনো প্ররোচনায় পড়ে রাস্তা বন্ধ করে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি না করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। আগেভাগে কোনো সমস্যার কথা সরকারকে জানালে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, ফলে রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না। শ্রমিকদের সহযোগিতা এবং কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আগামীতে এই অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে।
শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে সরকারের বিশেষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানরা যাতে অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ ইরতিজা আহসান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো.ফরহাদ সিদ্দিক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
