বান্দরবানের লামায় স্কুলের রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে তিন ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের সন্ধান মেলেনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ ছাত্রীরা হলো— ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়া সুলতানা ও রেশমি আক্তার এবং নবম শ্রেণির ছাত্রী হালিমাতুজ সাদিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে রেজিস্ট্রেশন কার্ড নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই তিন ছাত্রী। এরপর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, তাদের সর্বশেষ অবস্থান ছিল পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলায়। তবে পুলিশ ওই স্থানে পৌঁছার আগেই তারা সেখান থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস না পেয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্বজনরা।
একসঙ্গে তিন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকায় উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। দ্রুত তাদের সন্ধান নিশ্চিত করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ইয়াংছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল।
পরিবারের বরাতে তিনি জানান, মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে রোববার সকালে তারা বাড়ি থেকে বের হয়। তাদের মধ্যে দুজন সপ্তম শ্রেণির এবং একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা শেষবারের মতো ক্লাশে উপস্থিত ছিল; এরপর থেকে আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় এবং মঙ্গলবার থানায় জিডি করা হয়।
এদিকে মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিখোঁজ তিন কিশোরীর কেউই রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা সার্টিফিকেট নিতে তার বিদ্যালয়ে যায়নি। ফলে কী কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল এবং পরে কোথায় গেছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদ্ঘাটন ও উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তৎপরতা চালাচ্ছে।
লামার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মনজুর আলম জানান, তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি তিনি অবগত হয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।