পবিত্র উমরা পালনে প্রচুর বাংলাদেশি এই মুহূর্তে সৌদি আরবের মক্কা-মদিনায় অবস্থান করছেন। সৌদি আরবে অবস্থানকালীন সময়ে উমরা পালনকারীদের নানাভাবে অভিজ্ঞরা সতর্ক করছেন। বিশেষ করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ কিংবা কোনো কিছু লাইভ সম্প্রচার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে।
মনে রাখবেন, একটি ভিডিও, একটু লাইভ সম্প্রচার কিংবা একটি ফেসবুক পোস্ট কখনো কখনো আপনার জীবনে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি দু’টি ঘটনার কথা সামনে এসেছে, যা সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
প্রথম ঘটনা হলো- একটি ভিডিওর জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড! দু’জন নারী-পুরুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ করেছিলেন এক পাকিস্তানি। তিনি নিজে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেননি, শুধু তার এক বন্ধুকে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই ভিডিও এক হাত থেকে আরেক হাতে ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও ধারণ ও অন্যের কাছে দেওয়ার ঘটনায় ওই পাকিস্তানি নাগরিককে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ঘটনা হলো- একটি ফেসবুক লাইভের পর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ! সম্প্রতি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একজন আলেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে তিনি মক্কায় পৌঁছালে সৌদি পুলিশ তাকে হোটেল কক্ষ থেকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর তার অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। অথচ একই ঘটনা নিয়ে আরব বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
বিদ্যমান অবস্থায় বুঝতে হবে, কোনো দেশের অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রকাশিত হওয়া আর সেই দেশে অবস্থানরত একজন বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগতভাবে একই বিষয়ে লাইভ বা পোস্ট করা এক বিষয় নয়।
অতএব সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ, সৌদি আরবের নিজস্ব আইন, বিধিনিষেধ, নিরাপত্তানীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। আমাদের কাছে কোনো বিষয় স্বাভাবিক মনে হলেও সেটি স্থানীয় আইনের পরিপন্থী হতে পারে।
বিশেষ করে হজ-উমরা পালন করতে গিয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে কিংবা না বুঝে কোনো সংবেদনশীল ঘটনা ভিডিও করা, লাইভে আসা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন।
মনে রাখবেন- সব ঘটনা ভিডিও করার প্রয়োজন নেই। সব সংবাদ শেয়ার করার দরকার নেই। সব বিষয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। অন্যের ব্যক্তিগত কিংবা আপত্তিকর কোনো কিছু ভিডিও ধারণ ও প্রচার থেকে বিরত থাকুন। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করার আগে স্থানীয় আইন সম্পর্কে সচেতন হোন। সব সত্য প্রকাশ করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়; কখনো কখনো নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে নীরবতা ও সংযমই সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।
যারা হজ-উমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান, তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইবাদত-বন্দেগি, আত্মশুদ্ধি এবং নিরাপদে দেশে ফিরে আসা।
অপ্রয়োজনীয় একটি ভিডিও, একটি লাইভ কিংবা একটি মন্তব্যের কারণে নিজের জীবন, পরিবার ও ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযথা জড়িয়ে পড়ার চেয়ে দেশটির আইনকে সম্মান করে সচেতন ও সংযত থাকাই উত্তম।
আল্লাহতায়ালা সবাইকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: সৌদি প্রবাসী আলেম।
