ইউরোপের একাধিক দেশে গণবিক্ষোভে স্পষ্ট: বাম, ডান বা মধ্যপন্থী, কোনও সরকারই মানুষের মৌলিক দাবি পূরণে সক্ষম নয়। আর ভারত?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-এর প্রতিবেদন তোলপাড় ফেলেছে ভারতের রাজনীতিতে। সে প্রতিবেদনের দাবি, ইউরোপের একটি বড় অংশ জুড়ে যে ছাত্র-যুব-শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে ভারতের যোগসূত্র রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ভারতে যে-বিক্ষোভ চলছে তা নাকি এই সার্বিক বিক্ষোভেরই অঙ্গ। তাদের আরও দাবি, ১৩টি দেশের ১০১টি সংগঠন পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিক্ষোভ সংগঠিত করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরব শাসক দল বিজেপি। তাদের নিশানায় মূলত প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজধানীতে
একটি সংবাদমাধ্যমের আলোচনাচক্রে কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেছেন, কংগ্রেস তাদের এক ব্যর্থ নেতাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে দেশে অশান্তি সৃষ্টিতে পিছপা হচ্ছে না, এবং এই অশান্তি তৈরির জন্য বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপও চাওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেও বলা যায় যে, ভারতের ‘জেন জি’ সম্প্রদায়ের তরফে থেকে-থেকে যেভাবে আন্দোলনের ঢেউ উঠছে, তার সঙ্গে ইউরোপের গণবিক্ষোভের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। ভারতে এই বিক্ষোভের মুখ হয়ে উঠেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কংগ্রেসের চেয়েও বেশি তাদের প্রতিক্রিয়াশীল তারা। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির আন্দোলন যেভাবে জেন জি-সহ সমগ্র সমাজজীবনকে আন্দোলিত করে তোলে, তার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভের। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার মানের অবনমনের প্রতিবাদেই প্যারিসের রাস্তায় ছাত্ররা নামে। কিন্তু এই আন্দোলন অচিরেই মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব-বৃদ্ধি বিরোধী আন্দোলনে পর্যবসিত হয়। ফ্রান্সের এই বিক্ষোভসংক্রমণের মতো ছড়িয়ে যায় স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ইতালি, আলবেনিয়া, জার্মানি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশে। চড়া হারে মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানহীনতা, কল কারখানা বন্ধের আশঙ্কা, নতুন লগ্নি না-আসা- সর্বব্যপী এই হতাশার মধ্যেই দেশে-দেশে জন্ম নিচ্ছে বিক্ষোভ।
ফ্রান্সে মধ্যপন্থী ইমানুয়েল মাকরোঁর সরকার, ইতালিতে চরম দক্ষিণপন্থী জর্জিয়া মেলোনির সরকার, আবার স্পেনে রয়েছে বামপন্থী পেদ্রো সানচেজের সরকার। কিন্তু সর্বত্রই বিক্ষোভের চেহারা এক। জনগণ সরকারের রং দেখছে না। আবার পথেঘাটে যে জনতা বিক্ষোভে শামিল হচ্ছে তাদেরও নির্দিষ্ট রং নেই। ছাত্র ও যুবরা শিক্ষার সুযোগ এবং শিক্ষান্তে চাকরি চাইছে। শ্রমিক ও মধ্যবিত্তরা চাকরির সুরক্ষা দাবি করছে। বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর ভূমিকা চাইছে। বয়স্করা চাইছে সাধ্যের মধ্যে আবাসন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা। বাম, ডান বা মধ্যপন্থী, সব সরকারই বর্তমানে মানুষের মৌলিক দাবি পূরণে অক্ষম। বিশ্ব নতুন ব্যবস্থার সন্ধান ব্যগ্র!
