ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে গিয়ে স্পনসরশিপ লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়তে পারে এই আশঙ্কায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। কিছু ক্ষেত্রে ভর্তি প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
বিজনেস ইনসাইডারের তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কঠোরতর কমপ্লায়েন্স বিধির পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। নতুন নিয়মে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার কম রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভর্তি ও কোর্স সম্পন্নের হারও বজায় রাখতে হবে।
১ জুন থেকে ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’-এর আওতায় সর্বোচ্চ ভিসা প্রত্যাখ্যানের সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশের নিচে নামিয়েছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে স্পনসর করা শিক্ষার্থীদের অন্তত ৯৫ শতাংশকে ভর্তি করাতে হবে এবং কোর্স সম্পন্নের হার রাখতে হবে ৮৫ শতাংশ। বারবার এই মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অভিবাসন ও নাগরিকত্ববিষয়ক মন্ত্রী মাইক ট্যাপ বলেন, শিক্ষার্থী ভিসার পথ যেন ‘আশ্রয় আবেদন ও অবৈধ কাজের পেছনের দরজা’ হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সেটিই এই নীতির উদ্দেশ্য।
হোম অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাজ্যে স্টাডি ভিসার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ আবেদন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ, আর ২০২৩ সালে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।
তালিকাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন প্রত্যাহারের হার পাকিস্তানের ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। এরপর বাংলাদেশ ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নাইজেরিয়া ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে এ হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ।
আগাম ব্যবস্থা নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সান্ডারল্যান্ড, চেস্টার, উলভারহ্যাম্পটন, ইস্ট লন্ডন, কভেন্ট্রি, হার্টফোর্ডশায়ার, অক্সফোর্ড ব্রুকস, গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান এবং বিপিপি ইউনিভার্সিটি।
অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে আবেদনকারীদের স্পনসরশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। পাশাপাশি নাইজেরিয়া ও ভারতের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত কমপ্লায়েন্স যাচাই চালু করেছে।
সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার ডেভিড বেল বলেন, হঠাৎ ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন সীমায় পৌঁছানোর আগেই পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা সরকারি নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনতে পারে।
এই বিধিনিষেধ এমন সময়ে আসছে, যখন যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড টিউশন ফি আয় হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতের মোট আয়ের ২৩ শতাংশ। একই সময়ে ইংল্যান্ডের সরকারি অর্থায়ন পাওয়া ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থাৎ মোটের ৪০ শতাংশ, ঘাটতিতে পরিচালিত হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী ভ্যানেসা উইলসন সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুনর্গঠন, কর্মী ছাঁটাই, কোর্স বন্ধ এবং ক্যাম্পাস একীভূত করার পথে যেতে হতে পারে।
