Published on
:
2 min read
এই সময়, জাঙ্গিপাড়া: রোজকার মতো বাজারঘাটে লোকজন কেনাকাটা করছিলেন। কেউ আবার বাজারে চায়ের দোকানে খোশ মেজাজে গল্প করছিলেন। আচমকাই হল্লা, চিৎকারে বাজারের লোকজন হতভম্ব হয়ে যান। দেখা যায়, একদল লোক (পড়ুন বিজেপির কর্মী-সমর্থক) এক ব্যক্তির কোমরে দড়ি পড়িয়ে হিড়হিড় করে টেনে আনছে। পরনের জামাকাপড় টেনে টেনে ছেঁড়া হয়েছে।
সামনে আসতেই উপস্থিত লোকজন বুঝতে পারেন, ভরা বাজারে যাঁকে কোমরে দড়ি দিয়ে আসামীর মতো টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তিনি আর কেউ নন, স্থানীয় রাজবলহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান জয়দেব শীল ওরফে বাবলু। পুজোর আগে মঙ্গলবার এমনই নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল জাঙ্গিপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত রাজবলহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের বাজার চত্বর। ঘটনার খবর পেয়ে জাঙ্গিপাড়া থানার পুলিশ এসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে গাড়িতে বসিয়ে নিয়ে যায়।
সকাল সাড়ে ন'টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটার পর থেকেই গোটা বাজার এলাকা জুড়ে দিনভর পরিবেশ ছিল থমথমে। যদিও বিজেপির দাবি, গোটা ঘটনার পিছনে জনরোষ কাজ করেছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে পালাবদলের পরে অনেক দিন ধরেই এলাকাছাড়া ছিলেন রাজবলহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান জয়দেব ওরফে বাবলু শীল। পুজোর ঠিক আগে গ্রামে ফিরতেই এ দিন তাঁর উপরে চড়াও হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। সাত সকালেই তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে আনে বলে অভিযোগ। এর পরে কোমরে দড়ি বেঁধে রথতলা থেকে টানতে টানতে বাজার হয়ে সানা পাড়া, প্রায় এক কিমি রাস্তা নিয়ে যায়। সেই সময়ে পথচলতি লোকজন অনেকে মোবাইলে সেই ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়। যদিও পুলিশ এসে বাবলুকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
তবে স্থানীয়দের একাংশের কথায়, রাজনীতিতে হারজিত থাকে। কিন্তু এ ভাবে যদি কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজনকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তা দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে যায়, সেটা কিন্তু মানবতার অপমান। রাজনীতিতে এই ধরনের আচরণ বিপজ্জনক। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এটা সবার মনে রাখা দরকার। জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগ বলেন, 'আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে মন্তব্য করব।' যদিও এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে ফোন করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি।