নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিভিন্ন পরিবহন থেকে মাশোহারার সুযোগে কক্সবাজার-ঢাকা সড়কপথে ঢুকে পড়েছে অনেক অবৈধ যাত্রীবাহী বাস। নেই ফিটনেস, পার্কিং ব্যবস্থা। অদক্ষ চালকদের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। আবার একই নাম্বার প্লেট লাগিয়ে চলছে একাধিক বাস। এমন শুভঙ্করের ফাঁকি ধরার জন্য যেন কেউ নেই!
সম্প্রতি নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলত ‘সারা এক্সপ্রেস’ প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন একটি বাস (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) এর নাম্বার জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই নাম্বারপ্লেট লাগিয়ে কক্সবাজার-ঢাকা মহাসড়কে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক আরেকটি বাস। যা মোটরযান আধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
ইতোমধ্যে জালিয়াত বাসটি জেলগেট এলাকার একটি পার্কিং থেকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।
সারা এক্সপ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (কক্সবাজার জোন) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তাদের মালিকানাধীন বাসের নম্বর (ঢাকা মেট্রো -ব-১২-৫৯৭৯) জালিয়াতি করে প্রায় দেড় মাস যাবত মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচল করছে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস। বিষয়টি তারা অবগত হয়ে প্রথমে মৌখিকভাবে ট্রাফিক পুলিশকে অভিযোগ করেন। এরপরও অবৈধ চলাচল বন্ধ না হওয়ায় সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে বাসটি সনাক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই গাড়ি ‘জব্দ’ অবস্থায় পুলিশ লাইনে রয়েছে।
জেনারেল ম্যানেজার মো. শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সারা এক্সপ্রেসের একই নাম্বার ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাসে ব্যবহারের বিষয়টি এআই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। যার কারণে মূল মালিককে ৯৬ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়।
তিনি জানান, কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন করতে ভয়ংকর একটি জালিয়াতচক্র মহাসড়কে নাম-বেনাবে বিভিন্ন বাস নামিয়ে দিয়েছে। এসবের কারণে কোম্পানির পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।
নকল নাম্বার প্লেটধারী বাসগুলো সনাক্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘আইকন প্রিমিয়াম’ নামক বাস সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন পরিবহন মালিকগণ।
নাম্বার প্লেট জালিয়াতির অভিযোগে গাড়ি জব্দের বিষয়ে অবগত বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর খসরু পারভেজ।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ শামীম জানান, অভিযুক্ত বাসটি জব্দমূলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করে আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, অভিযোগমূলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন নাম্বার প্লেটের সঠিক মালিকানা নিশ্চিত করবে আদালত।
