ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের টিকিটের নাম ও তারিখ পরিবর্তন করে একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রির অভিযোগে রিপন মিয়া ওরফে কালু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন। রিপন জেলা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে। আটকের সময় তার কাছ থেকে ৪০টি ভুয়া টিকিট উদ্ধার করা হয়, যেগুলোতে মোট ৮৩টি আসনের তথ্য ছিল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, রিপনের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কম্পিউটারের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিটে যাত্রীর নাম ও তারিখ পরিবর্তন করে সেগুলোর ফটোকপি তৈরি করত। পরে একই টিকিট ১০ থেকে ১২ জনের কাছে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এভাবে একই আসনের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করায় ট্রেনে ওঠার পর যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তেন। আসন নিয়ে একাধিক যাত্রীর মধ্যে বিরোধ ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটত। সোমবার স্টেশনে অভিযান চালিয়ে রিপনকে আটক করা হয়। তার হোয়াটসঅ্যাপেও এ ধরনের আরও ভুয়া টিকিট রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল ইসলাম জানান, রিপনের কাছে আসল ও ভুয়া, দুই ধরনেরই বেশ কিছু ট্রেনের টিকিট পাওয়া গেছে। একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে তিনি টিকিট মজুত করতেন বলেও জানান ম্যাজিস্ট্রেট। হাতেনাতে আটক করার পর অপরাধের দায়ে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে রেলপথে যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
