ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় ও মেধাভিত্তিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। গতকাল (২১ অক্টোবর) উপদেষ্টা লক্ষ্মীপুর সদর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে এ কথা বলেন।
তিনি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। এর আগে গতকাল লক্ষ্মীপুর জেলা, পৌর ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপদেষ্টা বলেন, জনপ্রশাসনে বদলি, পদায়ন, পদোন্নতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকার অতীতের বিভাজন ও দলীয় বিবেচনাগুলো পেছনে ফেলে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে পদ থেকে বঞ্চিত বা বৈষম্য করা হবে না, আবার ধর্মীয় কারণে কাউকে কোনো প্রাধান্যও দেওয়া হবে না।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের উপাসনালয়ে কর্মরত পুরোহিত, সেবাইত, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও ধর্মযাজকদের মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জা এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এ সময় তিনি বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা কমলনগরে মায়ের কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমালোচনা হবে, মতবিরোধ হবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সার্বভৌমত্ব ও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দিনের শেষে আমাদের মনে রাখতে হবে- এই দেশটা আমাদের, এ দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড আমাদের।
পরবর্তীকালে রামগতি উপজেলার চর সীতা মৌজায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রকল্পের প্রস্তাবিত সাইট পরিদর্শন করেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা। পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা জানান, স্থানীয় যুবসমাজকে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী করার লক্ষ্যে এই টিটিসি প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে কমলনগর উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মেডিকেল সামগ্রী বিতরণকালে উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। আগামী কয়েক বছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যেন সহজেই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য না হন তা নিশ্চিত করা যাবে।
উল্লেখ্য, এ সময় উপদেষ্টা লক্ষ্মীপুর জেলা সার্কিট হাউস এবং কমলনগর ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করেন।
