Published on
:
2 min read
হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় দেবীপক্ষ বা শারদীয়া নবরাত্রি। এই বছর ১১ অক্টোবর সোমবার থেকে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। তারপর ১২ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হচ্ছ দুর্গাপুজো ২০২৬। অবাঙালিরা ৯ দিন ধরে মা দুর্গার ৯ রূপের পুজো করে থাকেন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এই সময় মর্ত্যে আগমন ঘটে মা দুর্গার।
Highlights
দুর্গাপুজোর আগে বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলুন এই ৪টি জিনিস।
ভাঙা দেবদেবীর মূর্তি, বন্ধ ঘড়ি ও পুরোনো জুতো বাড়িতে রাখা কি অশুভ?
নবরাত্রিতে পেঁয়াজ-রসুন খাওয়া নিয়ে কী বলছে ধর্মীয় বিশ্বাস?
বাস্তু ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, দুর্গাপুজোর আগে ঘর পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব।
দেবীকে খুশি করতে মনের ভক্তি সহকারে পুজো করার পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি। দুর্গাপুজো শুরুর আগেই বাড়ি থেকে কয়েকটি জিনিস সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা। এই জিনিসগুলি বাড়িতে থাকলে তা নেগেটিভ এনার্জি তৈরি করে। এই অশুভ শক্তি আপনার ঘরে পুঞ্জীভূত হয়ে থাকলে তাতে রুষ্ট হবেন দেবী দুর্গা। এর ফলে দেবীর রোষে নানা বিপদ বাড়তে পারে জীবনে।
বিশেষ করে বাস্তু অনুসারে এই সামগ্রীগুলি দারিদ্র্যের লক্ষণ। তাই মা দুর্গা মর্ত্যে আসার আগে এই জিনিসগুলি আপনার ঘরে থাকলে তা অবশ্যই সরিয়ে ফেলুন। তাহলেই জগজ্জননী জগদম্বা আপনার প্রতি তুষ্ট হবেন। দেখে নিন দুর্গাপুজো শুরুর আগে কোন কোন জিনিস ঘর থেকে সরাতে হবে।
ভাঙা মূর্তি
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে কোনও দেবতার ভাঙা মূর্তি বাড়িতে রাখা খুবই অশুভ। তাই কোনও মূর্তি ভেঙে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলুন। আপনার ঘরেও কোনও ভাঙা মূর্তি থাকলে দুর্গাপুজোর আগেই তা জলে ভাসিয়ে দিন। তবে যেখানে সেখানে ঠাকুরের মূর্তি ভুলেও ফেলবেন না। মনে রাখবেন বাড়িতে ভাঙা মূর্তি রাখলে তা আপনার দুশ্চিন্তার কারণ হবে।
বন্ধ ঘড়ি
আপনার বাড়িতে কি কোনও বন্ধ ঘড়ি আছে? জ্যোতিষ অনুসারে বাড়িতে বন্ধ ঘড়ি থাকলে তা অশুভ শক্তির সৃষ্টি করে। তাই ভুলেও বাড়িতে বন্ধ ঘড়ি রাখবেন না। দুর্গাপুজো শুরুর আগেই বাড়ি থেকে সব বন্ধ ঘড়ি সরিয়ে ফেলুন। না হলে দেবী দুর্গার রোষে আপনার জীবনে নানা বাধা বিপত্তি দেখা দিতে পারে।
পেঁয়াজ-রসুন
নবরাত্রি চলাকালীন পেঁয়াজ রসুন-সহ যে কোনও আমিষ খাবার এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বাস্তু বিশেষজ্ঞরা। এই সময় বাড়িতে পেঁয়াজ রসুন বা অন্য কোনও আমিষ খাবার রাখবেন না। এই সময় পুরোপুরি সাত্ত্বিক আহার করতে পারলেই সবচেয়ে ভালো হয়। তবে বাঙালিদের মধ্যে সাধারণত দুর্গাপুজোয় আমিষ আহারের রীতি আছে।
পুরোনো চটি-জুতো
যে জুতো বা চটি আপনি আর ব্যবহার করেন না, সেগুলি বাড়িতে জমিয়ে রাখবেন না। এর থেকে নেগেটিভ এনার্জি সৃষ্টি হয়। এই নেগেটিভ এনার্জি আমাদের জীবনে দুর্ভাগ্য ডেকে আনে। তাই বাড়িতে অব্যবহৃত চটি জুতো থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন এখনই। সেগুলি অন্য কারও ব্যবহারের উপযোগী হলে দান করে দিন।
FAQ
প্রশ্ন: দুর্গাপুজোর আগে বাড়ি থেকে কোন কোন জিনিস সরিয়ে ফেলা উচিত?
উত্তর: প্রচলিত বাস্তুবিশ্বাস অনুসারে, দুর্গাপুজোর আগে বাড়ি থেকে ভাঙা দেবদেবীর মূর্তি, বন্ধ ঘড়ি ও অব্যবহৃত পুরোনো চটি-জুতো সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: বাড়িতে ভাঙা দেবদেবীর মূর্তি রাখা কি অশুভ?
উত্তর: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, বাড়িতে ভাঙা দেবদেবীর মূর্তি রাখা অশুভ বলে মনে করা হয়। তাই মূর্তি ভেঙে গেলে সেটি নিয়ম মেনে সম্মানের সঙ্গে বিসর্জন দেওয়া উচিত।
প্রশ্ন: বাড়িতে বন্ধ ঘড়ি রাখলে কী হয়?
উত্তর: বাস্তু ও জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, বন্ধ ঘড়িকে স্থবিরতার প্রতীক মনে করা হয়। তাই ঘড়িটি সারিয়ে নেওয়া অথবা ব্যবহার না করলে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: বাড়িতে পুরোনো চটি-জুতো জমিয়ে রাখা উচিত কি?
উত্তর: বাস্তুবিশ্বাস অনুসারে, অব্যবহৃত চটি-জুতো জমিয়ে রাখা অনুচিত বলে মনে করা হয়। ব্যবহারযোগ্য জুতো অন্যকে দান করা যেতে পারে এবং নষ্ট জুতো যথাযথ ভাবে ফেলে দেওয়া যায়।
