গত ১৫ বছরে দুর্গাপুজোয় চরম ব্যস্ততায় কাটাতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার প্রায় সব বড় পুজোর উদ্বোধন করতেন তিনিই। কিন্তু এবারের পুজো একেবারে আলাদা। পদ নেই, ফলে দায়িত্বও নেই। এবার মহালয়ায় শহরেও ছিলেন না তিনি। দিল্লির আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। অবশেষে তৃতীয়ার সন্ধ্যায় উৎসবে ফিরলেন মমতা। মঙ্গলবার কালীঘাট মিলন সংঘের পুজো উদ্বোধন করলেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী।
১৫ বছর আগে পর্যন্ত পুজো উদ্বোধনের বিষয়টা পরিচিত ছিল না। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে কোনওদিন পুজো উদ্বোধন করতে দেখা যায়নি। তবে তৃণমূল জমানায় পুজোয় আমুল বদল এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমদিকে মহালয়ার পর থেকে কলকাতার প্রায় প্রতিটি বড় মণ্ডপের উদ্বোধন হত তাঁর হাতে। পরবর্তীকালে সময়ের অভাবে মহালয়ার আগেও উদ্বোধন শুরু করেছিলেন। ২০২৪ সালে অভয়া কাণ্ডে যখন উত্তাল বাংলা, তখন আমজনতাকে উৎসবে ফিরতে বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মমতা। কিন্তু চলতি বছরে তৃতীয়ার দুপুর পর্যন্ত সেই মমতাকেই দেখা যায়নি উৎসবে। যদিও এবারও একাধিক পুজোর উদ্বোধন হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। তবে এই মুহূর্তে কুর্সিতে শুভেন্দু অধিকারী। ফলে উদ্বোধন করেছেন তিনি। মমতা যেন আঁধারেই ছিলেন।
কিন্তু মঙ্গলবার অর্থাৎ তৃতীয়ার সন্ধ্যায় উৎসবে ফিরলেন তৃণমূল নেত্রী। গত শুক্রবার রাতে একাধিক কর্মসূচির জন্য দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন মমতা। মহালয়া কেটেছিল রাজধানীতেই। সেখানে আটকও হয়েছিলেন তিনি। অবশেষে কলকাতা ফিরেই পুজো উদ্বোধনে দেখা গেল তাঁকে। এদিন সন্ধ্যায় নিজের এলাকার ক্লাব অর্থাৎ কালীঘাট মিলন সংঘের মণ্ডপ উদ্বোধন করলেন তিনি। একেবারে ঘরের মেয়ের মতো আটপৌঢ়ে শাড়ি পরে ফিতে কাটতে দেখা গেল তাঁকে। উল্লেখ্য, মহালয়ার আগে অর্থাৎ পিতৃপক্ষে বেজায় আপত্তি ছিল বিজেপির। একাধিকবার সরাসরি তা নিয়ে মমতাকে আক্রমণ করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি নিজেও মহালয়ার আগে কোনও মণ্ডপের উদ্বোধন করেননি। তবে রবিবারের পর থেকে কলকাতার একাধিক পুজো উদ্বোধন হয়েছে তাঁর হাতেই।
