মাদকের সরবরাহ বন্ধ করাই ছিল মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলব, যার মাধ্যমে এই ঘুন্টিঘর নামক এলাকা—সেটি একটি দুটি, পাঁচটি, দশটি বাড়ি নয়, এটা একটা বিস্তৃত এলাকা, পুরো রেললাইন জুড়ে এই ঘুন্টিঘরের সমস্যাটা আমরা নিজেরা এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে, পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে আমরা সমাধান করব পর্যায়ক্রমে। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত হয় লাস্ট মিটিংয়ে।
তিনি আরও বলেন, এখন আমরা যে দিনটিতে গিয়েছি, সেটি আমাদের পূর্বনির্ধারিতই ছিল। তবে যেহেতু এখানে আমি কথাটি এভাবে বলতে পারব না, তারপরেও গোপনীয়তা রক্ষার কারণে পুরা এই ধরনের ঘটনা বা এই ধরনের অভিযান চালানোর পুরো নলেজটা শুধু কেবলমাত্র আমি আমার কাছেই সীমিতবদ্ধ রাখতাম এবং প্রয়োজনীয় যারা নেতাকর্মী এবং স্থানীয় যারা ওসি এবং পুলিশের সদস্যরা, তাদেরকে আমরা শেষ মুহূর্তে বলতাম যে আপনারা অমুক এবং জায়গাটিতে আসেন। কারণ আমরা জেনেছি যে, যেকোনো ধরনের তথ্য দিলে সেটা তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁস হয়ে যায়, তারা পালিয়ে যায়।
আরেকটি বিষয় উল্লেখ করি, আগস্ট মাসের ১২ তারিখে সেখানে দুটি গ্রুপের মাঝে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যেখানে তিনজন সিবিলিয়ান গুরুতর আহত হয়েছিল এই মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই। তো যাই হোক, আমরা যেদিন যাই সেদিন আমরা থানাকে জানিয়েছিলাম যে আমরা যাব এবং কোন সময় তারা আসবেন, সেটিও আমরা তাদেরকে জানিয়ে দিব—এরকম একটা পরিকল্পনা করে আমি যাই এবং আমাদের যারা স্থানীয় ভলান্টিয়াররা, তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় সেভ করা হয়।
তিনি বলেন, আমরা সেখানে প্রবেশ করার পর সাথেই সাথেই আপনারা জানেন বুঝবেন নাকি জানি না, মাটিতে মাচার মতো করে প্লাস্টিকের একটা বড় ঘেরাওয়ের মতো করে এগুলা নির্মাণ করা হয়ে থাকে, সেখানে ২০, ২৫, ৩০, ৪০ জন পর্যন্ত মাদকাসক্ত এবং মাদক বিক্রেতারা অবস্থান করে এবং সেখানেই তারা থাকে।
আমরা গাড়ি দিয়ে প্রবেশ করার সাথেই এবং ইতিপূর্বে এদের কাছ থেকে দেশীয় পাইপগান, অস্ত্রসহ নানা কিছু উদ্ধার করা হয়েছিল। আমরা যখনই প্রবেশ করি, আমরা দেখলাম যে একদল প্রায় ২৫-৩০ জন লোক সেখান থেকে বের হয়ে আসে, দিকবিদিক ছুটাছুটি করে এবং একদল লোক আমাদের গাড়ির দিকে আসতে থাকে। তো স্বাভাবিকভাবে আমার ইশরাক হোসেন আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত একটি লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে শুধুমাত্র আমার পার্সোনাল প্রটেকশনের জন্য, যেটি আমার কোমরে সবসময় থাকে। আমার সাথে আমাদের সরকারের যে সরকার দ্বারা প্রোভাইডেড সিকিউরিটি, তিনি ও ছিলেন।
তো এমতাবস্থায় আমরা গাড়ি থেকে নামি, আমি আমার যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে আমার যে বৈধ লাইসেন্সকৃত যে আগ্নেয়াস্ত্রটি সেটি আমার হাতে ধারণ করি, যদি কোনো ধরনের সিচুয়েশন তৈরি হয় যাতে আমি আমার নিজেকে রক্ষা করতে পারি, কারণ তাদের বিভিন্নভাবে তারা পাইপগানগুলোকে লুকিয়ে রেখে তারা গুলি করে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি মজার বিষয়, পুলিশ বাহিনী বহুবার তাদেরকে বলার পরেও তারা সেখানে যেতে চায় না, কারণ ছাদের থেকে গুলি করা হয় এবং তাদের একাধিক সদস্য আহত হয়েছে ইতিপূর্বে, যার কারণে তারা সাহস পায় না। এইসব কথা মাথায় রেখে আমরা আমাদের ন্যূনতম প্রটেকশনটা নিয়ে আমরা যাই।
বের হয়ে যাওয়ার গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আপনারা যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, মূলত যে ভিডিওটির কারণে আজকে এই অবস্থা, সেই ভিডিওতে আমি কেবলমাত্র এতটুকুই নিশ্চিত করেছি যে তাদের হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র আছে কিনা। তারা নিউট্রালাইজড হওয়ার পরে আমার আমার ব্যক্তিগত অস্ত্রটি আমি পকেটে ঢুকিয়ে দিই।
