গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ছোট ভাই আজিজুল মিয়া (৫৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি বড় ভাই জসিজলকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গাইবান্ধার এসআরবি-১৩-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মুহম্মদ মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্ব নয়নপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জসিজল এ মামলার প্রধান আসামি। এ নিয়ে এ মামলায় চার আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার জসিজল হক ওরফে ডিপটি (৬৫) সাদুল্লাপুর উপজেলার পশ্চিম ইসবপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে। হত্যার শিকার আজিজুল ও জসিজল আপন দুই ভাই।
এরআরবির পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্ব থেকে তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর মধ্যেই গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে বড় ভাই জসিজল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ধরণের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজিজুলের বসতবাড়ির সামনে বাহির আঙিনায় প্রবেশ করে একটি পাকা গোয়াল ঘর নির্মাণকাজ শুরু করেন। এতে আজিজুল ও তার স্ত্রী শাপলা বেগম বাধা দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদেরকে এলোপাথারী পেটাতে থাকে। একপর্যায়ে জসিজল হক তার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে ছোট ভাই আজিজুলের মাথায় আঘাত করে। একইসঙ্গে আজিজুলের স্ত্রীর শ্লীলতাহানি ঘটায়। জসিজলের লাঠির আঘাতে আজিজুলের মাথা ফেটে রক্ত ঝড়ে এবং শাপলা বেগমও আহত হন। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা আজিজুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেন। কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত পৌঁনে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজিজুলের মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় পরদিন (১৬ অক্টোবর) হত্যার শিকার আজিজুলের স্ত্রী শাপলা বেগম বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় চারজনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৯)।
পরে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি-১৩। এসবের এক পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোররাতে এসআরবি-১৩ এর গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্ব নয়নপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান আসামি গ্রেপ্তার জসিজলকে সাদুল্লাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঘটনার দিনই ঘটনাস্থল থেকে প্রধান আসামি জসিজলের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরবর্তীতে হত্যা মামলায় তাকে ৪ নম্বর আসামি করা হলে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সেদিন থেকেই ওই নারী আসামিও কারাগারে রয়েছেন।
মাসুম বিল্লাহ/এএমকে
