অনলাইন ডেস্ক
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই এই আসনে জামায়াতের সবচেয়ে দূর্বল ও অযোগ্য প্রার্থী বলে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার ও জনগণের মধ্যে ব্যাপক গুঞ্জণের সৃষ্টি হয়। তবে মুরাদনগরের সংগঠনের নেতাকর্মীরা অভ্যন্তরীণ পরিবেশের বৈঠকাদিতে ভদ্রভাবে' এর প্রতিবাদ জানান। ঘোষিত প্রার্থীর অযোগ্যতা, নেই পেশাগত পরিচয় নেই। এছাড়া তিনি মুরাদনগরের জনগণের কাছে সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তিও নয়। সংগঠনের জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কোন দায়িত্বশীল নন তিনি। এমপি প্রার্থী হিসেবে জনগণের কাছেও মানানসই নয় বলে নানা আপত্তি উঠেছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুরাদনগরের বেশ কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির জনশক্তির কাছ থেকে মতামত নেয়ার সময় যথেষ্ট অনিয়ম হয়েছে। সঠিক ও সুশৃঙ্খলভাবে মতামত না নেয়া, কেন্দ্রের পক্ষ যিনি প্রতিনিধি তিনি তাড়হুড়ো করে একটা উশৃংখল পরিবেশে মতামত নিয়েছেন।মতামত দানকারী জনশক্তিদের প্রাথমিক কোনো ব্রিফিং না করা। ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষ হয়ে আরো যোগ্যতা সম্পন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে মতামত নেয়ার আগে পরিকল্পিতভাবে রিউমার ছড়ানো।ভিতরে ভিতরে ঘোষিত প্রার্থীর পক্ষে মহিলা জামায়াত ও ইসলামি ছাত্রী সংস্থার জনশক্তির মাঝে প্রচার চালানো ইত্যাদি বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে বলে নেতা কর্মীরা খোলামেলাভাবে আলোচনা করেছেন। জেলা দায়িত্বশীলদের নির্দেশে উপজেলা আমীররের পক্ষ থেকে সংগঠনের শৃঙ্খলা ভংগের ভয় দেখিয়ে নেতাকর্মীদের দমিত করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে অসন্তোষ ও বিরোধের গুঞ্জন অব্যহত রয়েছে ৷
৫ বার সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুরাদনগরের জনপ্রিয় নেতা শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ নাম ঘোষণার পর এবং বর্তমান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাবেন এই আশায় ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করবেন এবং তিনি ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হয়েছেন। আবার ১২ নভেম্বর ২৫ ধানমন্ডিরতে জুলাই ২৪ এর একটা ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করে অলরেডি গণ সংযোগ শুরু করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি সেখানে তাদের দলের নির্দিষ্ট প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে। এখন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এনসিপি থেকে মুরাদনগর থেকে নির্বাচন করেন বা না করেন উভয় অবস্থায়ই জামায়াতের জন্য ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। এমনকি ফাঁকে বিজয় ছিনিয়ে আনার সম্ভাবনা অনেক। মুরাদনগরের আসনটিতে কায়কোবাদ ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার বিপরীতে-বিপক্ষে জামায়াতের আর কোনো শক্ত প্রার্থী থাকছে না। তবে জামায়াতে ইসলামী যদি প্রার্থী পরিবর্তন করে উপযুক্ত প্রার্থী দিতে পার তাহলে এবার খেলা জমবে। এই আসনে আরো অধিকতর অনেক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থী ছিলেন বিশ্ব বরণ্যে ইসলামিক স্কলার মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। তাকে যদি প্রার্থী করা হতো তাহলে জামায়াতের এই আসনে বিজয় নিশ্চিত হতো। কিন্তু তিনি নিজেই জামায়াতের রাজনীতিতে আসবেন কিনা বা নির্বাচনী রাজনীতিতে আংশগ্রহন করবেন কিনা তা এখনও সম্পুর্ন অনিশ্চিত। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন যে তাঁর এবছরের খোলা মাঠের মাহফিলও বন্ধ ঘোষণা করেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক চাকসু ভিপি ও জামায়াতের আইনজীবী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট জসিমউদদীন সরকার৷ অবশ্য কেন্দ্রীয় জামায়াতের সিদ্ধান্তে তাকে ঢাকা-১০ আসনে মনোয়ন দেয়া হয়েছে। মুরাদনগরের মেধাবী কৃতি সন্তান, গণমানুষের কাছে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণের মজলিসে শুরার সদস্য ডা: মো: তফাজ্জল হোসেন। তিনি বিগত ৪০ বছর ধরে মুরাদনগর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক ও সামাজিকসহ সামগ্রিক কার্যক্রমে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করছেন ৷
বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বত্র সাধারন জনগনের কাছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির গ্রহনযোগ্যতা বা সমর্থন অপরিসীম হলেও মুরাদনগরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দূর্বল। এই আসনের জামায়াতের সমর্থক ভোটারদের একান্ত দাবী অন্য প্রার্থীদের সাথে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে ও বিজয় ছিনিয়ে আনতে হলে মুরাদনগরের প্রার্থী পরিবর্তন করতে হবে৷
