নোয়াখালীর সদরে টাকা চুরির অভিযোগে কবির হোসেন (৩৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রাম এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন চারজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দুপুরের পর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
কবির হোসেন নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার মৃত আবু হানিফ ও কমলা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
নিহতের মা কমলা বেগমের অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মুন্সীর দোকানের সামনে কবিরকে ধরে নিয়ে যান কয়েকজন। পরে দোকানের পেছনের একটি খেতে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও দুই দফায় কিল-ঘুসি ও লাথি মারা হয়। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কবিরকে মারধরের পর খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরি হয়। ব্যাগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহায়তা চান তিনি।
পরে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে চুরির ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে কবিরকে শনাক্ত ও আটকের কথা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এ সময় স্থানীয় হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কবিরকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। অনেকে তাকে চিকিৎসার কথা বললেও আটক করা ব্যক্তিরা তা শোনেননি।
কমলা বেগম বলেন, আমার ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং প্রতিবন্ধী ভাতাও পেতেন। তিনি দাবি করেন, কবিরকে কয়েকটি ১০ টাকার নোট হাতে দিলে সেগুলোর মোট মূল্যও বলতে পারবে না। এমন একজনের বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। আমি ছেলের হত্যার বিচার চাই।
তার ভাষ্য, মারধরের পর আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই এলাকায় হোসেনের বাড়ি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রাতে পুলিশ দেবীপুরের অজু মেম্বারের বাড়ির সামনের একটি দোকানের কাছ থেকে কবিরের মরদেহ উদ্ধার করে।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, নিহতের শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কারা এবং কী কারণে তাকে মারধর করেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। বাকি আসামের আটকের চেষ্টা চলছে।
মজনু/রিফাত/
