গতকাল সন্ধ্যায় লাকসামের নাওটি স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এসব তথ্য জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। গতকালের এ ঘটনায় রেলওয়ের পথ বিভাগের এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় লাকসামের নাওটি স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এসব তথ্য জানান রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আগামী তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্য জড়িতদের প্রসঙ্গও স্বচ্ছভাবে উঠে আসবে।’
বরখাস্ত হওয়া মো. গোলাম সরোয়ার রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) ফেনী অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী। গাফিলতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
গতকাল দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নাওটি স্টেশনের আউটারে রেললাইন মেরামতের কাজ চলাকালে ঢাকামুখী ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পান তিন শতাধিক যাত্রী। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হতে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে। ৮ ঘণ্টা পরও লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার করা যায়নি। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। তবে বিকল্প লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়।
ট্রেনটির লোকোমাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেনের অভিযোগ, নাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে লাইন ক্লিয়ারেন্স পেয়ে যাত্রা শুরু করলেও রেললাইনে মেরামতের কাজ চলার বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি। কোনো সতর্কবার্তা বা গতিসীমা-সংক্রান্ত নির্দেশনাও দেয়া হয়নি।
প্রায় ১০০ মিটার দূরে লাল পতাকা দেখে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সামনে রেললাইন বিচ্ছিন্ন দেখতে পান তিনি।
নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেনও জানান, রেললাইনে মেরামতের কাজের বিষয়ে তাদের কোনো বার্তা দেয়া হয়নি। এ কারণে ট্রেনটিকে লাইন ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়।
এ দুর্ঘটনায় ট্রাফিক ও প্রকৌশল—দুই বিভাগেরই দায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের ফেনী অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীল। তিনি বলেন, ‘রেললাইনে কাজ চলার তথ্য যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
