পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হেবরনে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন বন্দুকধারীরাও। গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটার পর পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
এমন সময়ে নেতানিয়াহু এ হুমকি দিয়েছেন, যখন ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেবরনের কাছে সংঘটিত এ হামলায় আরও তিন সেনা আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েই চলেছে; সেনাবাহিনীর সহিংসতার পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও।
আজ রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেতানিয়াহু। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, হেবরনের যে এলাকা থেকে হামলাকারীরা এসেছিল, সেখান থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি ২০০২ সালে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক অভিযানের ইতিহাস স্মরণ করেছেন। সেই অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিখার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তখন বলেছিল যে, এই ধরনের উচ্ছেদ যুদ্ধাপরাধের শামিল; যদিও ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সাংবাদিকদের নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা ঠিক সেটাই এখানে করব। আমরা বাসিন্দাদের সরিয়ে দেবো, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালাব, সেখানকার অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত করব এবং সমস্ত সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবো।”
নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পর, রয়টার্সের একজন প্রতিবেদক দেখেছেন যে, হেবরনে গুলির ঘটনার কাছাকাছি এলাকায় ইসরায়েলি বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ভেঙে ফেলা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যেসব বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে হামলাকারীদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করা হলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়ছে
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সামরিক প্রধান গ্যাডি আইজেনকোট—উভয়ের কেউই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। নেতানিয়াহুর সরকারের শাসনামলে বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া দ্রুত প্রসারিত হয়েছে। জাতিসংঘ এবং অধিকাংশ দেশ এই বসতিগুলোকে অবৈধ বলে গণ্য করলেও, ইসরায়েল তা স্বীকার করে না।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজ ফসল জলপাইয়ের সংগ্রহের মৌসুমে উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা জোরদার করেছে। এতে অন্তত তিনজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং সাংবাদিক, ইউরোপীয় কূটনীতিক ও ফ্রান্সের একজন মেয়রসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীরাও ইসরায়েলি সৈন্য ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। সেপ্টেম্বরে, পশ্চিম তীরের একটি বসতির কাছে ঝরনার পাশে এক বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে এক ইসরায়েলি ব্যক্তিকে হত্যা করে। পরে সন্দেহভাজন ওই বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
