চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাসপাতালে যেতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তার ব্লাড প্রেসার (রক্তচাপ) ও পালস (নাড়ির স্পন্দন) স্বাভাবিক রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২২ মিনিটে ৫৪ সেকেন্ডের এক ভিডিওতে উপাচার্য বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, গতকাল দুপুর ১২টা থেকে আমরা বিদ্যুৎসংযোগ বিহীন অবস্থায় আছি এবং খাবারের সাপ্লাইও ঠিকমতো নেই। ফলে গতকালের লাঞ্চ থেকে আজকে পর্যন্ত আমাদের ঠিকমতো কারওই লাঞ্চ, ডিনার বা ব্রেকফাস্ট সেভাবে হয়নি। রাত ২টার সময় পুলিশ কর্তৃক সরবরাহকৃত কিছু ডিনার আমরা করেছিলাম এবং সারারাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। ফলে পুরা সকাল থেকেই আমার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা এবং হালকা বুকে ব্যথা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুপুর ১২টা থেকে ব্যথার মাত্রা বাড়তে থাকে এবং একটা পর্যায়ে এখন আমি আর কারও সঙ্গে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তো আপনারা সকলে সহযোগিতা করবেন, আমি দ্রুত আমার স্বাস্থ্যের পরীক্ষার জন্যে হাসপাতালে যাওয়ার জন্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
এর আগে, দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, স্যারের পালস ও ব্লাড প্রেসার ঠিক আছে। তিনি আমাকে ব্যথার কথা বলেননি। তিনি শুধু তার ব্লাড প্রেসার ও পালস কেমন আছে, তা দেখতে বলেছেন। তার ব্লাড প্রেসার ছিল ১২০/৮০।
চিকিৎসক আরও বলেন, উপাচার্য নিয়মিত কোনো ওষুধ খান না। মাঝে মাঝে রক্তচাপের ওষুধ খান। তাকে বলা হয়েছে, বর্তমানে রক্তচাপ স্বাভাবিক রয়েছে। বেড়ে গেলে তখন ওষুধ খেতে হবে। উপাচার্য শুধু তাকে বলেছেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি অস্বস্তি বোধ করছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে উপাচার্য ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ রয়েছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বের হতে পারেননি। তার সঙ্গে ভবনের ভেতরে আরও ১০ থেকে ১১ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা আছেন।
এর আগে, সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা তার দপ্তরের সামনে জড়ো হন এবং একপর্যায়ে তাকে কার্যালয় ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে দুপুর ১২টার দিকে তারা উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারও তালা দেন এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ভেতরে থাকা একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। অন্যদিকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালন করছেন কর্মবিরতি ও ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা ভবনের ফটকের তালা খুলবেন না। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত অচলাবস্থার সমাধান হয়নি।
